বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ইতিহাসের মহানায়ক : আনিসুজ্জামান

946

ঢাকা, ১২ আগস্ট ২০১৮ (বাসস) : বাংলা একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের মহানায়ক। তিনি জাতির স্থপতি। তাঁর নেতৃত্বে আমরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি এবং জয়লাভ করেছি। যত চেষ্টাই হোক না কেনো বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও বাংলাদেশ একাকার হয়ে গেছে। জীবদ্দশায় তিনি যেমন আমাদের সংগ্রাম ও সংকল্পে প্রতীক ছিলেন, মৃত্যুর এতো বছর পরও তিনি তাঁর সেই স্থানেই স্বমহিমায় বিরাজিত রয়েছেন।
তিনি আজ সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে চার দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে এ বক্তব্য রাখেন। এতে ‘বাঙালির বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক একক বক্তৃতা করেন কবি ও বাংলা একাডেমির ফেলো কামাল চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বঙ্গবন্ধু রচিত বই ‘কারাগারের রোজনামচা’ থেকে পাঠ করেন নাট্যজন এ এস মহসীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক সায়েরা হাবীব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ফিতা কেটে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন লেখকদের বইয়ের প্রদশর্নী উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধুর লেখা তিনটি বই, অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা ও প্রিজন ডায়েরিস’সহ পাঁচ শতাধিক বই প্রদর্শিত হচ্ছে। এই প্রদর্শনী চলবে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত।
কবি কামাল চৌধুরী বলেন, ভাষা আন্দোলনের কূলপল্লী ¯্রােত বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে রূপান্তরিত হয় এবং এই পর্বে মূল নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ একত্র হয়ে এক অখ- বাঙালি জাতিতে পরিণত হয়েছিল। এভাবেই সংগ্রাম ও আন্দোলনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পাকিস্তানিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু জাতিকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত করে একটি সংগ্রামমুখি সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছিলেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের ইতিহাসের প্রথম বাঙালি যাঁর অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় ঐক্য, বাঙালি জাতিসত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাষ্ট্রীয় অবয়বে। অসাম্প্রদায়িক জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আগে অনেকেই দেখেছেন কিন্তু বাস্তবায়ন ঘটেছে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী নেতৃত্বে। বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি একটি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে। বঙ্গবন্ধু এ কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছেন বলেই তিনি বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের জনক।
তিনি বলেন, সংগ্রাম ও আন্দোলনের সুদীর্ঘ যাত্রায় বাঙালি বঙ্গবন্ধুকে আপন করে নিয়েছিল অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে এবং বাঙালির ইতিহাসের প্রধান নায়ক হিসেবে। বাঙালির জাগরণের চূড়ান্তপর্বে জাতি ও তাঁর নাম সমার্থক হয়ে উঠেছিল। আজও বাঙালি এবং তাঁর পরিচয় সমার্থক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজ আমাদের প্রাত্যহিকতায় মিশে আছেনÑ মিশে থাকবেন জাতির অগ্রযাত্রার প্রতিটি অনুভবেÑ সাহস, শক্তি ও অনুপ্রেরণা হিসেবে।
স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য ও সমার্থক। তাঁর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন ভূখ- এবং লাল-সবুজের পতাকা অর্জন করেছি। আজও তাঁরই প্রেরণায় আমরা এগিয়ে চলেছি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে।

image_printPrint