বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৬টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

39
image_printPrint

ঢাকা, ৯ এপ্রিল, ২০১৮ (বাসস) : বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৬টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সফররত ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশভ গোখলে ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হকের মধ্যে বৈঠকের পর এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
গোখলে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও উন্নয়ন ইস্যু এবং প্রধান প্রধান উদ্যোগ ও সিদ্ধান্তের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনার জন্য ৩ দিনের সফরে গতকাল ঢাকা পৌঁছেছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব গোখলে বলেন, সাম্প্রতিক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে স্বাক্ষরিত অর্থবহ চুক্তির বিশাল ও ক্রমবর্ধমান তালিকায় আজ আমরা আরো ৬টি ডক্যুমেন্ট যোগ করলাম।
এর মধ্যে ৪টি সমঝোতা হয়েছে নুমালিগড় ও পার্বতীপুরের মধ্যে ফেন্ডশ্রীপ পাইপ লাইন, প্রসার ভারতী ও বাংলাদেশ বেতারের মধ্যে সহযোগিতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিসিআর উর্দু চেয়ার প্রতিষ্ঠা এবং জিসিএনইপি-বিএইসি ইন্টারএজেন্সি চুক্তিতে সংযুক্তি। অপর দু’টি সমঝোতা স্বারক হচ্ছে বাংলাদেশে ৫শ’ বিদ্যালয়ে ল্যাঙ্গুযেজ ল্যাব স্থাপন ও রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন।
তিনি বলেন, এটি হচ্ছে শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার, সড়ক অবকাঠামোসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক খাতে প্রকল্প গ্রহণের প্রয়াসের অংশ। এসব খাতে মঞ্জুরী অর্থায়নের আওতায় ১ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা দেয়া হচ্ছে।
গোখলে বলেন, ভারত হচ্ছে বাংলাদেশের পরীক্ষিত উন্নয়ন অংশীদার। গত সাত বছরে এই প্রতিবেশীকে ভারত ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ঋণ দিয়েছে। এটি কোন একক দেশকে ভারতের সবচেয়ে অধিক ঋণ দেয়ার অঙ্গীকার।
২০০৮-০৯ সাল থেকে আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৩ গুণ বেড়ে ২.৭৫ বিলিয়ন থেকে ২০১৬ সালে ৭.৫২ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে একথা উল্লেখ করে সফররত পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, গত বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে বেসরকারি খাতে জ্বালানি, লজিস্টিক, শিক্ষা ও ওষুধ খাতে প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ১৩টি চুক্তি হয়েছে।
গোখলে শহীদুল হকের সঙ্গে তার বৈঠককে খুবই অর্থবহ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এতে দু’দেশের একত্রে মোকাবেলার ক্ষেত্রগুলোর চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে একটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ ও মৌলবাদ। আমরা একত্রে ও অন্যান্য সমমনা দেশগুলোকে নিয়ে এই অপরাধের বিরুদ্ধে লড়ে যাব।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, নৌপরিবহন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের মতো খাতগুলোর অগ্রগতিতে আমরা সন্তুষ্ট।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সম্প্রতি এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের শর্ত পূরণে এই প্রথম খুবই উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অর্জনে বাংলাদেশের ভুয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তরে আশাবাদের লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টায় আমরা বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিেেব সহায়ক ভূমিকা পালনে আমরা সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।
নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক ও বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা অন্যান্যের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেন।