কটুক্তি ও বল টেম্পারিংয়ে হুমকিতে ক্রিকেটের ডিএনএ : আইসিসি প্রধান

175

লন্ডন, ৭ আগস্ট ২০১৮ (বাসস) : বল টেম্পারিং, সামনা সামনি পরস্পরকে কটুক্তি করা এবং মাঠেই ঝগড়া-বিবাদ ক্রিকেটের মূলনীতিকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন। খেলোয়াড়দের এসব বাজে আচরণ বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
লর্ডসে এমসিসি’র কলিন কাউড্রে স্মারক বক্তৃতায় রিচার্ডসন খেলোয়াড়দের বল টেম্পারিং বিষয়ক নিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করার লক্ষ্য স্থিরের দাবি জানিয়ে বলেন, আইনে এটি পরিস্কার করে দেয়া আছে। এ বিষয়ে অভিযোগ উদ্দেশ্যমূলক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিচার্ডসন বলেন, ‘কথায় আছে, এটি শুধু ক্রিকেট নয়, কোন দুর্ঘটনাও নয়। কারণ ক্রিকেটের শিকড় নিহিত রয়েছে সততার মধ্যে। মানুষ জানে, ক্রিকেট খেলার চেয়েও বিশেষ কিছুর প্রতিনিধিত্ব করে। আমরা এখন অধিক হারে বাজে আচরণ দেখছি, যা খেলাটিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। এটিকে থামাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘স্লেজিং ব্যক্তিগত বিবাদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। ফিল্ডাররা আউট হওয়া ব্যাটসম্যানদের বিদায় সম্ভাসন জানাচ্ছে, অপ্রয়োজনীয় শারীরিক সংঘর্ষ, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খেলোয়াড়দের না খেলার হুমকি এবং বল টেম্পারিং, এসব আমাদের খেলার সংস্করণ নয়। বিশ্ববাসীকে আমরা এটি প্রদর্শন করতে চাই না।’
গত মার্চে কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিত ও তার দুই সতীর্থ খেলোয়াড়ের বল টেম্পারিংয়ের কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য নিষিদ্ধ হওয়াসহ সাম্প্রতিক সময়ের ঝগড়া-বিবাদ ক্রিকেটের মর্যাদাকে কলুষিত করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সিরিজ চলাকালে মাঠের বাইরে অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার ও কুইন্টন ডি ককের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ এবং দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে আচরণবিধি ভঙ্গের প্রবণতা দেখা গেছে।
গত মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে চান্ডিমালের বিরুদ্ধে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগের প্রতিবাদে শেষ দুই ঘন্টার জন্য মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনায় নিষিদ্ধ হয়েছেন শ্রীলংকান অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমাল, কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহ এবং ম্যানেজার আসাঙ্কা গুরুসিনহা।
গত মাস থেকে আইসিসি বল টেম্পারিংয়ের জন্য কঠিন শাস্তির বিধান সংযুক্ত করেছে। তবে দুইবার এই আইন ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসিস এই আইনের ‘স্পষ্টতা’ দাবি করেছেন। জবাবে রিচার্ডসন বলেছেন, আইনটি খুবই স্পষ্ট।

image_printPrint