সীমান্তে জিরো কিলিং লক্ষ্যে পৌঁছতে বিএসএফ সবকিছু করছে : আইজি সাউথ বেঙ্গল

46
image_printPrint

॥ মাহমুদুল হাসান রাজু ॥
কোলকাতা (ভারত), ৭ এপ্রিল, ২০১৮ (বাসস) : ভারতের সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিদর্শক পিএসআর অঞ্জনেলু আজ বলেছেন, তার বাহিনী প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তে ‘জিরো কিলিং’ লক্ষ্যে পৌঁছতে সম্ভাব্য সবকিছু করছে।
মহাপরিদর্শক বলেন, আমরা প্রাণঘাতি নয় (নন-লেথাল) এমন অস্ত্রের কৌশল অনুসরণ করছি। তবে আমরা এখনো এ লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারলেও সীমান্তে চোরাচালানী হত্যার সংখ্যা কমেছে। ২০১৬ সালে ৯ জন নিহত এবং ২০১৭ সালে এই সংখ্যা কমে হয় ৩ জন। চলতি বছর মার্চ পর্যন্ত এখনো কেউ নিহত হয়নি। নিহতের সংখ্যা হ্রাসে আমরা খুব খুশী নই। আমাদের মহাপরিচালক খুশী নন। কারণ, এই সংখ্যা শূন্যের কোটায় নিয়ে আসাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। এ চেষ্টায় আমরা এখনো সম্পূর্ণ সফল হইনি। আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি যে এই সংখ্যা শূন্যে নেমে আসবে। প্রায়ই সংঘটিত এ ধরনের ঘটনা আমাদের বিব্রত করে।
তিনি আজ সকালে কোলকাতায় সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের সদর দপ্তরে বাংলাদেশী মিডিয়া প্রতিনিধিদের একথা বলেন।
মহাপরিচালক বলেন, এই নন-লেথাল অস্ত্র কৌশল আমাদের বাহিনীর সদস্যদের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। কারণ, সীমান্ত রক্ষী বাহিনী আর কাউকে গুলি করবে না এটা বুঝতে পেরে অপরাধীরা আরো বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, গতবছর দক্ষিণ বঙ্গ সীমান্তে আমাদের ২ জওয়ান শহীদ হয়েছেন। ২০১৬ সালে আহত হয়েছেন ৪৮ জওয়ান।
২০১৭ সালে আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭০ জন। অপরাধীরা চাপাতি, কুড়াল, বাঁশসহ কিনা ব্যবহার করেছে। কিন্তু আশার কথা যে, আমাদের প্রতিবেশী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে সামষ্টিক প্রয়াসের ফলশ্রুতিতে সীমান্তে আমাদের অনেক অগ্রগতি হয়েছে।
আমরা সীমান্তে যুগপৎভাবে সমন্বিত প্রহরা, নৈশ সমন্বিত প্রহরা পলিচালনা করছি।
বিএসএফ’র এই কর্মকর্তা ব্যাটালিয়নের বদলিকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তে জিরো কিলিং লক্ষ্য অর্জনের একটি বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দু’বছর পর পর আমাদের ব্যাটালিয়নগুলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলি হয়। কোন জওয়ান পাকিস্তান সীমান্তে নিয়োজিত হলে তিনি একজন শত্রু হত্যার জন্য পুরস্কার পান। কিন্তু বাংলাদেশী সীমান্তে কোন জওয়ান গুলি করলে তাকে বিচারের সম্মুখীন হতে হয়। এতে তারা হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে।
মহাপরিদর্শক বাংলাদেশে ছোট ছোট অস্ত্রের চোরাচালান রোধ ও বন্ধে এখানে অভ্যন্তরীণ আইন-শৃংখলা প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে আরো গুরুত্বারোপ করেন। কিন্তু অস্ত্র চোরাচালানীরা অস্ত্র আনা-নেয়ায় বিভিন্ন ও আরো বন্ধুর পথ ব্যবহার করছে।
এর আগে গতকাল বিএসএফ মিডিয়ার প্রতিনিধিদলকে সুন্দরবনে বিওপি সীমান্ত প্রহরী সাগর উদ্বোধনে নেয়া হয়। সেখানে সাংবাদিকদের বিএসএফ’র নদ-নদী এলাকায় কর্মকান্ড সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়।
বিএসএফ ২৭ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট প্রভাত রঞ্জন শর্মা সফররত সাংবাদিকদের স্বাগত জানান ও ব্রিফ করেন।
এসএইচকিউ কোলকাতার কমান্ড্যান্ট (ওপিএস) এম কে বার্নাল, ডিসি এসএইচকিউ এস এস মিত্র ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।