কৃষির উন্নয়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে : ড. শাহজাহান কবীর

421

রংপুর, ৪ আগস্ট, ২০১৮ (বাসস) : বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেছেন, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আজ শনিবার গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলাধীন বালাআটা গ্রামে ব্রি’র রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় এবং গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত “আউশ ধানের ফসল কর্তন ও মাঠ দিবস এবং আধুনিক ধান চাষের কলাকৌশলের উপর প্রশিক্ষণ” কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। ব্রি’র রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্রি’র রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. মোঃ আবু বকর সিদ্দিক সরকার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত মাঠ দিবস ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, ব্রি’র বিজ্ঞানীগণ, সম্প্রসারণবিদ এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ দু’শতাধিক কৃষক ও কৃষাণী।
মো: শাহজাহান কবীর বলেন, কৃষিকে বিশেষ করে ধান উৎপাদনকে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান করার ওপর বিশেষ গ্ররুত্বারোপ করে তিনি আরো বলেন, এজন্য ব্রি কৃষকদের পাশে রয়েছে। ধান উৎপাদনের জন্য কৃষকদের যত সমস্যাই থাকনা কেন, ব্রি’র পক্ষ থেকে কৃষকদের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি কৃষকদের ধান উৎপাদন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য, নতুন বীজ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার আশ^াস প্রদানপূর্বক তাদেরকে ব্রি’র সাথে যোগাযোগের আহ্বান জানান। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকেও তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
এসময় ব্রি-রংপুর কর্তৃক উক্ত এলাকায় কৃষকের মাঠে স্থাপিত প্রদর্শণী প্লটে ব্রি উদ্ভাবিত আউশের বিআর২৬, ব্রি ধান৪৮ ও ব্রি ধান৬৫ জাত ধানের শস্য কর্তন করা হয়। এসময়উক্ত আউশ জাতের ধানসমূহের যথাক্রমে বিঘা প্রতি ১৭, ১৫ ও ১৪ মন ফলন পাওয়া যায়। উপস্থিত কৃষকগণ আশাতীত ফলন পেয়ে উক্ত জাত তিনটি আগামীতে অধিক চাষের আশা ব্যক্ত করেন।
এসময় কৃষক প্রতিনিধি মোঃ মো: আয়নাল হক তার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, ব্রি উদ্ভাবিত আউশের বিআর২৬, ব্রি ধান৪৮ ও ব্রি ধান৬৫ জাতগুলির ফলন অনেক বেশি, চাষাবাদে সময়, সার এবং পানি অনেক কম লাগে। তাই এ ধান চাষের খরচ কম এবং লাভ অধিক। ব্রি ধান৪৮ এর ভাত খেতে বেশ সুস্বাদু ও ঝরঝরে। তাছাড়া ব্লাস্ট ও বিএলবি রোগের আক্রমণ খুব কম। আগামীতে তিনিসহ উক্ত এলাকার কৃষকরা ব্রি’র এ আউশ জাতগুলো অধিক হারে চাষ করবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
ড. মোঃ আবু বকর সিদ্দিক সরকার তার সমাপনি বক্তব্যে ব্রি উদ্ভাবিত আউশের এ জাতগুলো থেকে আরো অধিক ফলন পাওয়ার কৃষিতাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ২০ থেকে ২৫ দিনের চারা ২/৩টি করে দিয়ে এপ্রিল মাসের ২য় সপ্তাহ থেকে মে মাসের ২য় সপ্তাহের মধ্যে রোপন করতে হবে। সারি থেকে সারি এবং গোছা থেকে গোছার দূরুত্ব ৮ ইঞ্চি করে দিতে হবে। চারা রোপণের সময় মাটির উর্বরতাভেদে প্রতি শতকে ইউরিয়া ২০০ গ্রাম, টিএসপি ২১০ গ্রাম, পটাশ ৩০০ গ্রাম জিপসাম ১৮০ গ্রাম এবং দস্তা ২৫ গ্রাম প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। পরবর্তীতে রোপণের ২০ ও ৪০ দিন পর দুইবার ইউরিয়া সার শতকে ২০০ গ্রাম হারে উপরি প্রয়োগ করতে হবে। রোপণের দিন হতে ৩০-৩৫ দিন পর্যন্ত জমিকে সম্পূর্ণভাবে আগাছামুক্ত রাখতে হবে।
তিনি সুষ্ঠুভাবে আউশ ধান চাষাবাদের লক্ষ্যে নতুন জাতের বীজ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার জন্য ব্রি’র রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়, রংপুর এর সাথে যোগাযোগের জন্য উপস্থিত কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করেন।

image_printPrint