অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন কমাতে পারে নারী নির্যাতন

790

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০(বাসস) : নগরীর মিরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে এক গৃহ পরিচারিকার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে তাকে। গত জুন মাসে এ ঘটনা ঘটে। একই মাসে আরো এক গৃহপরিচারিকাকে হত্যা করা হয় এবং আর একজন আত্মহত্যা করে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের প্রতিবেদন মতে গত জুন মাসে ৩০৮ জন নারী ও কন্যা শিশু ধর্ষণসহ নির্যাতনের শিকার হয়। এছাড়াও হত্যার শিকার হয়েছে সাতজন।
পরিষদের মতে, করোনাকালীন সময়ে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। পরিষদের হিসেব মতে ৪০ ভাগ নারী বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
আর এসব নির্যাতন বন্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে সমাজে নিম্ন শ্রেণীর নির্যাতনের বিষয়গুলো প্রকাশিত হলেও উঁচু শ্রেণীর নারীরা তা খুব একটা প্রকাশ করে না।
মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট মনোয়ারা হক বলেন, নারী ও কন্যা শিশুদের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে হলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মানুষের মধ্যে ব্যাপকহারে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। এই সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি নারীদের আরো বেশী অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নারীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। মূলত এই সরকারের আমলেই নারীরা অনেক বেশী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে। এখন সমাজের প্রায় প্রতিটি স্তরে নারীদের পদচারণা। প্রশাসন, আইন শৃংখলা বাহিনি, বিচার বিভাগ, ব্যবসা সবখানেই নারীরা সদর্পে তাদের দক্ষতা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নারী উদ্যোক্তা ব্যবসায় আসছেন।
মনোয়ারা বলেন, নারীদের যদি আরো বেশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা যায় তাহলে নারী নির্যাতন অনেকাংশে কমে যাবে। অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত করতে হবে। গৃহস্থালীর কাজে নারী এবং পুরুষ উভয়ের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন অব ল মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্সেসের কংগ্রেস চেয়ারম্যান এবং সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা মো মোজাহেরুল হক বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত নারী নির্যাতনের ঘটনার হার বৃদ্ধি আশঙ্কাজনক। এটি প্রতিরোধ করতে হবে। আর এজন্য সাধারন মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরী করতে হবে। এর পাশাপাশি সমাজে বেশ কিছু কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস চালু রয়েছে। এসব দূর করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ধর্ষনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন বৃদ্ধি পেয়েছে সেই বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্ধারণ করে সে লক্ষ্যে সবাইকে একযোগ কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মান-মানসিকতাও পরিবর্তন করতে হবে। সমাজে ধর্ষনের শিকার নারী ও কন্যা শিশুদের স্বাভাবিকভাবে দেখে না। এই মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়াও এসব ঘটনায় যাতে পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে সেজন্য ১০৯ নম্বরে দ্রুত ফোন করার আহ্বান জানান তিনি।