পারস্পরিক ভ্রমণের মধ্যদিয়ে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্প বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে : পর্যটন প্রতিমন্ত্রী

153

ঢাকা,২৭ আগস্ট,২০২০ (বাসস) : বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
প্রতিবেশী বন্ধুপ্রতিম সকল রাষ্ট্রের জনগণের পারস্পরিক ভ্রমণের মধ্যদিয়ে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্প কোভিড-১৯-এর কারণে সৃষ্ট বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যটন ও এভিয়েশনশন খাতে বিশেষভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সহযোগিতা এ দু’টি খাতে উভয়ের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার শ্রীমতি রীভা গাঙ্গুলি দাস আজ বৃহস্পতিবার মো. মাহবুব আলীর সাথে সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গেলে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দু’দেশের মধ্যে পর্যটন ও এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি করার ব্যাপারে বিশদ আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় জনগণের অবদানের কথা বাংলাদেশ সবসময়ই স্মরণ করে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দুই বন্ধু রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে।
এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শক্তিশালী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। দিন-দিন এ সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হচ্ছে। শক্তিশালী সম্পর্ক দু’দেশের জনগণের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।
রিভা গাঙ্গুলি বাংলাদেশে অবস্থানকালে তার সুন্দরবন ভ্রমণের চমৎকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন,পর্যটনের অপার সম্ভাবনার একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পর্যটন সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনাও প্রচুর।
ভারতীয় অনুদানে রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহস্থ কুঠিবাড়ির অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে উল্লেখ করে বিদায়ী হাইকমিশনার বলেন, এ কাজ সমাপ্তির পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশাল সংখ্যক মানুষ তা দেখতে বাংলাদেশ ভ্রমণ করবে।
রিভা গাঙ্গুলী কোভিড-১৯-র কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাণিজ্যিক ও কার্গো বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু করার প্রস্তাব দেন এবং বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে কাজ করতে ভারতের আগ্রহের কথা প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
জবাবে মাহবুব আলী বাণিজ্যিক ও কার্গো বিমান চলাচল পুনরায় চালুর প্রয়োজনীতার বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী জানান, সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেট-লন্ডন সরাসরি বিমান চলাচল দ্রত শুরু হবে। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর অধিবাসীদের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা অনেক বেশি সুবিধাজনক হবে। ভারতীয় হাইকমিশনার এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে অবস্থানকালে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য বিদায়ী হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও তিনি শ্রীমতি রীভা দাস গাঙ্গুলী ভারতের পররাষ্ট্র সচিব (পূর্ব) হিসেবে পদায়িত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান ও তার শুভ ভবিষ্যত কামনা করেন।