জুভেন্টাসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে চাপে রিয়াল ও জিদান

82

মাদ্রিদ, ২ এপ্রিল, ২০১৮ (বাসস) : গত সপ্তাহে জিনেদিন জিদান বলেছিলেন তিনি রিয়াল মাদ্রিদেই থাকতে চান। কিন্তু মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লীগে জুভেন্টাসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের সাফল্যের উপর তার এই আগ্রহ অনেকটাই নির্ভর করছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্রথম লেগের ম্যাচটিতে জিদান তার সাবেক ক্লাব জুভেন্টাসের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। লা লিগায় ইতোমধ্যেই শিরোপ হাতছাড়া হওয়ায় ইতালিয়ান জায়ান্টদের বিপক্ষে ম্যাচে জিতে শেষ চার নিশ্চিত করাই এখন জিদানের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ। একইসাথে তার ভবিষ্যতও এখানে অনেকটাই নির্ভরশীল। লা লিগার পাশাপাশি কোপা ডেল রে’ থেকেও ইতোমধ্যেই বিদায় নিয়েছে গ্যালাকটিকোরা। আগের রাউন্ডে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে অবশ্য রিয়াল কোন কার্পণ্যই করেনি। সেই আত্মবিশ্বাসে অবশ্য জুভেন্টাসের বিপক্ষেও ভাল করার আশাবাদ জিদান শিষ্যদের। মৌসুমে এই একটিমাত্র শিরোপা এখন রিয়ালের সামনে অপেক্ষা করছে, আর গত দুইবারের শিরোপা জয়ী দলটি তা কোনভাবেই হাত ছাড়া করতে চাইবে না।
মাদ্রিদের আবহও অনেকটা তাদেরই পক্ষে রয়েছে। শেষ ১১টি ম্যাচেই ১০টিতেই জয় এসেছে। এর মধ্যে পিএসজিকে বিদায় করার ম্যাচটিও রয়েছে। লীগে টানা জয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের থেকে মাত্র চার পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পুরো দল মিলে করেছেন সর্বমোট ৩৬টি গোল। গড়ে প্রতিটি ম্যাচে তিনটির কিছু বেশী গোল এসেছে।
রিয়াল ফরোয়ার্ড লুকাস ভাসকুয়েজ বলেছেন, ম্যাচটা খুব ভাল সময়ে আমাদের কাছে এসেছে। গত কয়েক মাসে আমরা বেশ ছন্দে আছি। ভাল খেলে অনেক গোল আদায় করতে পেরেছি। এটা সত্যিই আমাদের জন্য দারুন মুহূর্ত। আর এখন এই পরিস্থিতি থেকে পুরো সুবিধা আমরা নিতে চাই।
গত বছর চ্যাম্পিয়নস লীগে টানা দ্বিতীয় ও লীগ শিরোপা জয় সত্তেও জিদান রিয়ালের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজের অবস্থান শক্ত করতে পারেননি। ম্যানেজার হিসেবে অবশ্য এটাই প্রথমবারের মত তার তুরিনে ফেরা। ২০০৫ সালে সর্বশেষ খেলোয়াড় হিসেবে তিনি তুরিনে এসেছিলেন। চ্যাম্পিয়নস লীগের শেষ ১৬’র ঐ ম্যাচটিতে রিয়াল ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল। ডেভিড ট্রেজেগুয়েটের গোলের পরে মার্সেলো জালায়েটার অতিরিক্ত সময়ের গোলে জুভদের জয় নিশ্চিত হয়। ঐ সময় জুভেন্টাসের ম্যানেজার ছিলেন ফ্যাবিও ক্যাপেলো। রিয়ালের ঐ দলটিতে ছিলেন ডেভিড বেকহ্যাম, রোনাল্ডো, থমাস গ্রাভেসেনের মত তারকারা। ১৩ বছর পরে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে আবারো এই দুই দলের দ্বৈরথের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ানলুইজি বুফন। এবারের দল দুটির কোন পরিচয় অবশ্য দেবার কোন প্রয়োজন নেই। গত বছর চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনালেও এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল।
ফাইনালে ৪-১ গোলের জয় জিদানের অধীনে রিয়ালের সবচেয়ে বড় সাফল্য। ম্যাচটি শুধুমাত্র টানা দ্বিতীয়বার রিয়ালের শিরোপা জয়ের জন্যই নয়, খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত পারফরমেন্সের কারনেও স্মরণীয় হয়ে আছে। জুভেন্টাসকে এককথায় পাত্তাই দেয়নি মাদ্রিদ খেলোয়াড়রা। কার্ডিফের সেই জয়টা যদি জিদান রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে চায় তবে তা ইসকোর জন্য কাজে আসবে। কারন ঐ ম্যাচে গ্যারেথ বেল, মার্কো আসেনসিওকে ছাড়িয়ে ইসকোই ছিলেন সেরা। এই তিনজনই মঙ্গলবারের ম্যাচে একই গতি নিয়ে মাঠে নামবেন। শনিবার লাস পালমাসের বিপক্ষে পিঠের সমস্যার কারনে খেলতে না পারলেও ইসকো রোববার দলের সাথে অনুশীলন করেছেন। এছাড়া গত সপ্তাহে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের হয়ে হ্যাটট্রিক করার আত্মবিশ্বাসতো রয়েছেই। এদিকে লাস পালমাসের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিটই মাঠে ছিলেন বেল। ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচটিতে তিনি করেছেন দুই গোল।
জুভেন্টাসের দিক থেকে এটি একটি প্রতিশোধের সুযোগও হতে পারে। শেষ ১৬’তে টটেনহ্যামকে বিদায় করা জুভরাও রয়েছে দারুন ছন্দে। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন হুয়ান কুয়াড্রাডো ও গিওর্গিও চিয়েলিনি।

image_printPrint