তিন বিভাগেই এগিয়ে থেকে চার বছরের ফলকে ছাপিয়ে গেল চট্টগ্রাম বোর্ড

চট্টগ্রাম, ৩১ মে ২০২০ (বাসস) : এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে তিনটি বিভাগেই বেড়েছে (বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক) তুলনামূলক পাসের হার ও জিপিএ-৫। বিগত চার বছরের ফলকে ছাপিয়ে তুলনামুলক সব সূচকেই ফলাফল ভালো হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এ বছর বিজ্ঞানে পাসের হার ৯২.২৩% যা গত বছরের তুলনায় সামান্য বেশী৷ মানবিকে পাসের হার ৭৫.৮৪% যা গত বছরের তুলনায় ১০.০৫ শতাংশ বেশী এবং ব্যবসায় শিক্ষায় পাসের হার ৮৮.৬৭% যা গত বছরের তুলনায় ৭.৮২ শতাংশ বেশী। রোববার (৩১ মে) এইসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ন চন্দ্র নাথ।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড সুত্র জানায়, এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৪.৭৫ শতাংশ, ২০১৯ সালে পাসের হার ছিল ৭৮.১১ শতাংশ। ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৫.৫০ শতাংশ, আর ২০১৭ সালে পাস করে ৮৩.৯৯ শতাংশ।
এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ২১ হাজার ৮৮৮ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে, গত বছর পাস করেছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৫১ শিক্ষার্থী। ২০১৮ সালে পাস করেছিল ১ লাখ ২ হাজার ৩৭ জন। ২০১৭ সালে পাস করে ৯৯ হাজার ২২ জন শিক্ষার্থী।
এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮ জন। তারমধ্যে ছাত্র ৪ হাজার ২৪৫ জন এবং ছাত্রী ৪ হাজার ৭৬৩ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল মোট ৭ হাজার ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী। ২০১৮ সালে জিপিএ-৫ পায় ৮ হাজার ৯৪ জন, ২০১৭ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮ হাজার ৩৪৪ জন।
এ বছর ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছে। গত বছর শতভাগ পাস করেছিল ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ২০১৮ সালে ২৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছিল।
এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৪৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৬ জন শিক্ষার্থী ১৯৬টি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এ বছর ১ হাজার ৪৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শতভাগ ফেল করেছে এমন একটিও নেই।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ বলেন, এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা বিগত বছরের তুলনায় অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। জিপিএ-৫ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেশিরভাগ অবদান রেখেছে ছাত্রীরা। তাদের জিপিএ-৫ বৃদ্ধি পেয়েছে গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ২২টি। যাকে মেয়ে শিক্ষার অগ্রগতির ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য বলা যেতে পারে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে যে তিনটি পিছিয়ে পড়া পার্বত্য এলাকা রয়েছে সেখানেও এবার পাসের হার গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফলাফল ভালো হওয়ার পিছনে দুটি বিষয় ভালোভাবে কাজ করেছে জানিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, প্রথমটি হলো সরকারের গৃহীত শিক্ষামুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ। বিশেষ করে নারী শিক্ষা এবং স্বল্পোন্নত এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য বর্তমান সরকারের নানমুখী পদক্ষেপের কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলমুখী হয়েছে। যার ফলাফল আসতে শুরু করেছে।
‘দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে এ বছর উত্তরপত্র বির্তরণকালে পরীক্ষকদেরকে উত্তরপত্র মূল্যায়নে যথেষ্ঠ আন্তরিক এবং যথেষ্ট সময় প্রদানের জন্য বারবার অনুরোধ এবং তা নজরদারিতে রাখা হয়। তাছাড়া উত্তরপত্র নিরীক্ষণ কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার উপর অধিক জোর দেয়া হয়, যাতে পরীক্ষার্থীরা অহেতুক ক্ষতির সম্মুখীন না হয়। আশা করছি ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’ যোগ করেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ।