নীলফামারীতে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু

82

নীলফামারী, ১ এপ্রিল, ২০১৮ (বাসস) : জেলায় শুরু হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ। প্রথম পর্যায়ের সফলতার পর অনেকে শুরু করেনছেন বাগান সম্প্রসারণ। এমন একজন উদ্যোক্তা জেলার ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের খাটুরিয়া গ্রামের রিয়াসত করিম। তার কৃষি ফার্মে দেড় বিঘা জমির সফলতার পর এবার সম্প্রসারণ করেছেন আরো ৯ বিঘা জমিতে।
রিয়াসত করিম জানান, ২০১৬ সালে পরীক্ষামূলক ড্রাগন চাষ করেন। এক বছরে মধ্যে সফলতায় তিনি আরো নয় বিঘা জমিতে বাগান সম্প্রসারণে গত শনিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিক চারা রোপণ করেছেন। এসময় তার মা রওশনারা বেগম চারা রোপণ উদ্বোধন করেন।
ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. কেরামত আলী, বিএডিসি ডোমার বীজ উৎপাদন খামারের সহকারী পরিচালক মো. আতাউর রহমান, কৃষিবিদ ড. আজমল হোসেন ম-ল, ঈশ্বরদীর পেপে বাদশা নামে পরিচিত রাষ্ট্রপতি পদক প্রাপ্ত মো. শাহজাহান আলী বাদশা, যশোরের চৌগাছা উপজেলার ড্রাগন নার্সারী মালিক জুলফিকার সিদ্দিক, মেহেরপুরের গাংনি উপজেলার বাগান মালিক নজরুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আনছারুল হক, সজিব সীডের স্বত্বাধিকারী আহসানুল হক, শিক্ষক ধনেশ্বর মল্লিক প্রমুখ।
রিয়াসত করিম কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন গত ২০ বছর ধরে। ২০১৬ সালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশিষ কুমার সাহার মাধ্যমে ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। এরপর ইণ্টারনেটের মাধ্যমে ড্রাগন ফল চাষ সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হয়ে দেড় বিঘা জমিতে যশোরের চৌগাছা থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেন। এক বছরের মধ্যে গাছ থেকে ফল আসলে তিন লাখ টাকার উর্ধ্বে বিক্রি করেন। কিছু স্থানীয় বাজারে বিক্রির পর ঢাকা ও সিলেটের বাজারে বিক্রি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘দেড় বিঘা বাগান করতে আমার খরচ হয় ছয় লাখ টাকা। প্রথম বছর আমি ফল পাই তিন লাখ টাকার উপরে। প্রতিবছর এর ফলন বৃদ্ধি পাবে। এবং একটি বাগান থেকে অন্তত ১০ বছর ফল পাওয়া যাবে। ওই দেড় বিঘা জমিতে এক হাজার ২৪টি গাছ রয়েছে। এবারে নয় বিঘায় রোপল করা হবে সাড়ে সাত হাজার চারা।’
নীলফামারী কৃষি সম্পসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক কেরামত আলী বলেন, ‘আন্যান্য ফসলের তুলনায় ড্রাগন চাষ লাভজনক। চারা রোপনের এক বছরের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে। জেলায় ব্যক্তি উদ্যোগে আটটি বাগান গড়ে উঠেছে। সফলতার পর অনেকে বাগানের পরিধি বাড়াচ্ছেন। প্রথমবারের ফল থেকে প্রতি বিঘা জমিতে দুই লাখ টাকার উর্ধ্বে আয় হচ্ছে। পর্যায়ক্রম আয় বাড়তে থাকবে।’

image_printPrint