ছুটির ফাঁকে বিদেশী জাতের তরমুজ চাষ করে চমক দেখালেন ব্যবসায়ী জহুরুল

630

টাঙ্গাইল, ৫ মে, ২০২০ (বাসস) : ঢাকার একজন ব্যবসায়ী জহুরুল হক। বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম দিকেই তিনি চলে গেলেন টাঙ্গাইলে তার গ্রামের বাড়িতে। সেখানে অলস সময়ে শখের বশে তিনি সিদ্ধান্ত নেন গ্রামের বাড়িতে কৃষি চাষাবাদ করবেন। তখন তিনি বিদেশী জাতের তরমুজ চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন। পরীক্ষামূলকভাবে কোরিয়ার সাকেরা, থাইল্যান্ডের ব্লাক বেরী ও ইয়োলো বেরী এবং সৌদি আরবের সাম্মাম জাতের তুরমুজের বীজ এনে জেলায় প্রথম আবাদ করেছেন। এখন মাত্র দুই মাসেই সাফল্য তাকে চমকে দিয়েছে।
সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ফৈলারঘোনা এলাকার হযরত আলীর ছেলে জহুরুল হক বলেন, ঢাকার পুরানা পল্টনে প্রিন্টিং এর ব্যবসা করেন তিনি। ব্যবসার সুবাধে গাজীপুর কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটে তার যাতায়াত শুরু হয়। যাতায়াতে এক পর্যায়ে সেখান থেকে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। বর্তমান করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। অলস সময়ে শখের বশে তিনি সিদ্ধান্ত নেন গ্রামের বাড়িতে কৃষি চাষাবাদ করবেন। তখন তিনি বিদেশী জাতের তরমুজ চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন।
পরে তার বাসার পাশে দুই বিঘা জমিতে তিনি তরমুজের চাষাবাদ করেছেন। ফলনও অনেক ভাল হয়েছে। দুই মাসে গাছ বড় হয়ে তরমুজ ধরতে শুরু করেছে। আগামী তিন সপ্তাহ পর তরমুজ বিক্রি করা যাবে। তরমুজের সঙ্গে তিনি শসা, ইস কোয়াস, চিচিঙ্গা, জিঙ্গা ও ভূট্টার মিশ্র চাষ করেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ব্লাক বেরী তরমুজের উপরে কালো ও ভিতরে লাল, ইয়োলো বেরী তরমুজের উপরে হলুদ ও ভিতরে লাল এবং সাম্মাম জাতের তরমুজে উপরে গারো হলুদ ভিতরে লাল। প্রতিটি তরমুজ পাঁচ থেকে ছয় কেজি ওজন হবে। বাজারে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। প্রতিটি তরমুজ পাইকারি ৪০-৫০ টাকা ও খুচরা ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি করা যাবে। দুই বিঘা জমিতে তার হাল চাষ, সার, বীজ, শ্রমিক মজুরি সব মিলে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় দুই বিঘা জমির তরমুজ তিনি প্রায় চার লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবে বলে তিনি আশা করছেন।
তিনি বলেন, এসব জাতের তরমুজ বার মাস পাওয়া যাওয়া যায়। বাজারে এ জাতের তরমুজের চাহিদা ও ভালো দাম রয়েছে। দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে এই নতুন জাতের তরমুজ দেখতে তার মাঠে ভীড় করছেন অনেকেই।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জহুরুল হকসহ আরও দুই শ্রমিক তরমুজ গাছ পরিচর্যা করছেন। সারি-সারি গাছে তরমুজ ধরেছে অসংখ্য। তরমুজের সাথে শসা, ইসকোয়াস, চিচিঙ্গা, জিঙ্গা ও খেতের চতুরপাশ দিয়ে ভূট্টার চাষ করেছেন তিনি। ভূট্টার জাতটিও বিদেশি। পোকা মাকড় ধমনের জন্য বাগানের বিভিন্ন স্থানে বিশটি সেক্স ফেরোমন ফাঁদ বসানো আছে। তরমুজ বাগানে কাজ করা শ্রমিক বুদ্দু মিয়া বলেন, জহুরুল হক দুই বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এখানে দুই-তিন জন শ্রমিক চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফল হওয়ার আগ পর্যন্ত দেখাশোনা করবেন। ফল পরিপক্ক হলে সেগুলো গাছ থেকে উঠিয়ে বাজারে সরবরাহ করবেন তারা। যে মজুরি পাচ্ছেন তা দিয়ে তাদের ভালোই চলছে। তরমুজ চাষ দেখতে আসা গিয়াস ও লাবু মিয়া বলেন, জহুরুল হক এখানে বিদেশি জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। তার ফলনও ভাল হয়েছে। এলাকা নতুনে তরমুজের চাষ হওয়ায় তারা দেখতে এসেছেন। তাদের এলাকায় এর আগে তরমুজ চাষ হয়নি। এই বিদেশী জাতের তরমুজের যে চাহিদা বাজারে দেখছি তাতে করে এই জাতের তরমুজ চাষ করে লাভবান হওয়া যাবে। এ কারণে তারাও জহুরুল কাছে এই তরমুজ চাষের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছে।
জহুরুল ইসলাম বলেন, অনেকটা শখের বশে পরীক্ষামূলকভাবে এই তরমুজ চাষ শুরু করি। বাড়ির পাশে দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে কোরিয়ার সাকেরা, থাইল্যান্ডের ব্লাক বেরী ও ইয়োলো বেরী এবং সৌদিআরবের সাম্মাম জাতের তরমুজ চাষ শুরু করি। চারা রোপণের দুই মাসের বেশি সময়ে প্রতিটি গাছে ফল ধরতে শুরু করেছে। জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই তরমুজ বাজারে তোলা যাবে। এলাকায় নতুন হওয়ায় এই জাতের তরমুজ চাষে বেশ সাড়া পেয়েছি। আগামীতে আরও ব্যাপকভাবে এই জাতের তরমুজ চাষের ইচ্ছা আছে। আল্লাহর রহমতে এতে করে আমার ভালোই লাভ থাকবে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ বলেন, সদর উপজেলার বিচ্ছিন্নভাবে এক একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। কৃষি অফিসের নিয়োগকৃত উপ-সহকারীরা প্রতি সপ্তাহের একবার গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।

image_printPrint