প্রযুক্তির মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করতে আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সভা অনুষ্ঠিত

586

ঢাকা, ১৯ এপ্রিল, ২০২০ (বাসস) : ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে দ্রুততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি বিভাগের মধ্যে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের চলমান পরিস্থিতিতে তথ্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে দ্রুততা, স্বচ্ছতা ,জবাবদিহিতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করতেই এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আজ রোববার তার সরকারি বাসভবন থেকে সভাপতি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হন।
বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান সচিবালয় থেকে উক্ত বৈঠকে যোগদান করেন।
এছাড়া আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ শাহকামাল, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ বৈঠকে অংশ গ্রহণ করেন।
বৈঠকে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সমন্বয় ও দ্রুততর করতে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার সে বিষয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত কি সহযোগিতা প্রয়োজন সে বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ হতে জানতে চাওয়া হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করতে সরকারি এবং বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সময়ে মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া এবং এই কাজে স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজ তৈরী ও জাতীয় তথ্য সেবা হেল্পলাইন ৩৩৩এর সাথে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সংযোগ স্থাপন করা প্রয়োজন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয় এটুআই প্রোগ্রাম সারাদেশে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপকার ভোগীদের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজ তৈরীর জন্য একটি সফটওয়ার তৈরী করবে।
এছাড়া উপকার ভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন সনদ এবং মোবাইল নাম্বার ব্যবহারের মাধ্যমে একটি নির্ভুল ডেটা বেইজ তৈরী এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে জানানো হয়। উপকার ভোগীদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রত্যেক উপকার ভোগীর একটি ছজ কার্ড তৈরী করা হবে। মাঠ প্রশাসন সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপকার ভোগীদের তালিকা অনুযায়ী ছজ কার্ড প্রিন্ট করে উপকার ভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
ত্রাণ বিতরনের সময় বিতরণকারী এই ছজ কার্ড তার মোবাইল ফোনের এ্যাপস এর মাধ্যমে স্ক্যান করবেন। ফলে উপকার ভোগীর তথ্য কেন্দ্রীয় ডেটাবেইজে হালনাগাদ হয়ে যাবে এবং সকল ধরণের দ্বৈততা ও অনিয়ম পরিহার করা সম্ভব হবে।
এছাড়া ডেটাবেইজটি তৈরী হলে সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে সবাই মত প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কেউ যেন খাদ্য সংকটে না ভোগে সে বিষয় টি নিশ্চিত করার জন্য সরকারি সেবা সম্পর্কিত হেল্পলাইন ৩৩৩এর মাধ্যমে ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং সেই আবেদন তালিকা যথাযথ যাচাই-বাছাই করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করবে। এই সেবা প্রদানের জন্য৩৩৩ এর কারিগরী সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আইসিটি প্রতিমন্ত্রী নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, এই দুর্যোগকালীন সময়ে জনগণের বৃহত্তর কল্যানার্থে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথ ভাবে কাজ করবে এবং প্রয়োজনীয় সকল সহযোগীতা প্রদান করবে।
এছাড়াও আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার তৈরী ও উপকার ভোগীদের ডেটা বেইজ তৈরীর করার কাজ শুরু প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য উভয় মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

image_printPrint