জাতীয় জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার গান-আবৃত্তি সন্ধ্যা

120

ঢাকা, ৩১ মার্চ, ২০১৮ (বাসস) : মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিজয়ের জমজমাট গান ও কবিতায় শুক্রবার সন্ধ্যা মুখর ছিল জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী শাহীন সামাদের স্বাধীনতার গান ও বাচিক শিল্পী বেলায়েত হোসেনের কবিতার যুগলবন্দি নিয়ে অনুষ্ঠানটি বিপুলসংখ্যক দর্শক শ্রোতা উপভোগ করেন।
জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত এই প্রধান অতিথি থেকে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
অধ্যাপক সিদ্দিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের গান, নাটক, কবিতা, গীতিনাট্য আমাদের ইতিহাসের অনন্য সম্পদ। এই সম্পদ নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করার ফলে তারা নিজেদেরকে সংস্কৃতি সংগ্রাম সম্পর্কে জানতে পারছেন।
তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বিভিন্ন অঙ্গনের শিল্পী, সাহিত্যিক, কবিদের অবদান ছিল ব্যাপক পরিসরে। বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন থেকেই শিল্পীরা মাঠের সংগ্রামে অবতীর্ণ হন তাদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। তাদের এই সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের বিজয় পর্যন্ত অবিরাম অব্যাহত ছিল।
অনুষ্ঠানে শিল্পী শাহীন সামাদ যে সব গান পরিবেশন করেন, সেগুলো হচ্ছে- বাংলা ভাষা রাখতে মাগো, ওরে বিষম দৈরার ঢেউ, বাংলা আমার জন্মভূমি, মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম, বিজয় নিশান উড়ছে ঐ, স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে, এবং চারটি নরুজল গীতিসহ আটটি গান। গানের ফাঁকে ফাঁেক শিল্পী বেলায়েত হোসেন আবৃত্তি করেন মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় ও স্বাধীনতার কয়েকটি কবিতা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে,কবি শামসুর রাহমানের ‘ তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা, কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘ আজও আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই’,কবি হুমায়ূন কবিরের ‘ এক গঞ্জের গল্প, কবি নির্মলেন্দু গুণের ‘ স্বাধীনতা এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ এবং কবি হেলাল হাফিজের ‘ শরণার্র্থী ’ কবিতা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন জাতীয় জাদুঘরের শিক্ষা বিভাগের কীপার কবি শিহাব শাহরিয়ার।
স্বাধীনতার সাতচল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাদুঘরের বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন। পুরো মার্চ মাসে এ নিয়ে জাদুঘর স্বাধীনতার বার্ষির্কীতে মোট এগারটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানগুলোতে অতিথি হিসেবে শতাধিক কবি, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন।

image_printPrint