স্মিথ-ওয়ার্নারকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করলো সিএ

35
image_printPrint

জোহানেসবার্গ, ২৮ মার্চ ২০১৮ (বাসস/এএফপি) : বল টেম্পারিং-এর দায়ে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া আসরে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যান ক্যামেরন ব্যানক্রফট বল টেম্পারিং করেন। তাই গেলো দু’দিনের তদন্ত শেষে আজ স্মিথ ও ওয়ার্নারকে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পাশাপাশি বল টেম্পারিং করা ব্যানক্রফটকে ৯ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে সিএ।
শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া আসরই নয়Ñ আগামী মাস থেকে শুরু হওয়া ইন্ডিয়ার প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলতে পারবেন না স্মিথ ও ওয়ার্নার। আইপিএলের দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে চুক্তিও হারিয়েছেন তারা। যার মূল্য ২ মিলিয়ন ডলার।
এক বিবৃতিতে সিএ জানায়, ‘সকল আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া আসরে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে ব্যানক্রফটকে।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে বল টেম্পারিং করা তিন খেলোয়াড়কে অনুমতি ও উৎসাহী করা হবে ক্লাব ক্রিকেটে খেলার জন্য।’
যেমন, তারা ইংল্যান্ডের ক্লাব ক্রিকেটে খেলতে পারবে কি-না তা পরিস্কার নয়।
‘কৃত্রিম উপায়ে বলের আকার পরিবর্তন’ পরিকল্পনার জন্য অভিযুক্ত হন স্মিথ। কিন্তু পরিকল্পনায় সহযোগিতা করার জন্য অভিযুক্ত হয়েছেন ওয়ার্নার।
সিএ’র বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা শেষ হবার পরও অন্তত ১২ মাস দলের নেতৃত্বের জন্য বিবেচিত হবেন না স্মিথ । ভবিষ্যতে ওয়ার্নারও এমন অবস্থান থেকে বাধাগ্রস্ত হবে।
নিষেধাজ্ঞা পাওয়া এই তিন খেলোয়াড়কে অবশ্যই কমিউনিটি ক্রিকেটে ১শ’ ঘন্টার জন্য স্বেচ্ছা শ্রম দিতে হবে।
-গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন-
সিএ’র প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড বলেন, ‘বোর্ড এই ঘটনার শাস্তির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দিয়েছে। যার মধ্যে ব্যানক্রফট বলের এক পাশে একটি হলুদ স্টিকি টেপ ব্যবহার করেছিলেন এবং বলের একপাশে তা ব্যবহারে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা অনেক বেশি সুইং পেয়ে থাকে।
তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং ব্যক্তিপর্যায়ের জড়িত থাকার ঘটনার শাস্তি হিসেবে অনুমোদন দেয়ায় আমি সন্তষ্ট।
বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে। তবে কোচ ড্যারেন লেহম্যানকে নিজ দায়িত্বেই রেখে দিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বলেছে তিনি বল টেম্পারিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেননা।
এই ঘটনায় ওই খেলোয়াড়দের আর্থিকভাবেও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্মিথ ও ওয়ার্নার এরই মধ্যে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) চুক্তি থেকে ছিটকে পড়েছেন। স্মিথকে রাজস্থান রয়্যালস এবং ওয়ার্নারকে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ চুক্তিবদ্ধ করেছিল। যা ইতোমধ্যেই ফ্র্যাঞ্চাইজি দুটি বাতিল করেছে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) জানিয়েছে, ২০১৮ সালের আইপিএলে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে আইপিএলে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল দুটির কর্তারা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভারতীয় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছে, ‘বিসিসিআই আশা করছে আইপিএলে অংশগ্রহণকারী ক্রিকেটাররা অবশ্যই ক্রিকেটের চেতনা এবং খেলোয়াড় ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের জন্য প্রণীত আচরনবিধি মেনে চলবে।’
আগামী শুক্রবার জোহানেসবার্গে শুরু হতে যাওয়া প্রোটিয়াদের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের চতুর্থ এবং শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া দলের নেতৃত্ব দেবেন উইকেট রক্ষক টিম পাইন। দল থেকে বিতাড়িত ওই তিন খেলোয়াড়ের পরিবর্তিত হিসেবে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়া থেকে বিমানে করে উড়াল দিয়েছেন ম্যাট রেনশ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও জো বার্নস। সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা।
ইতোমধ্যে ম্যাচ ফির পুরোটাসহ এক ম্যাচের জন্য স্মিথকে নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ঘটনাবহুল ম্যাচটি শেষে তিনি বলেছেন, এই পরিকল্পনার সঙ্গে দলের নেতৃস্থানীয় সবাই জড়িত ছিল। তবে সাদারল্যান্ড বলেছেন, কোচ লেহম্যান এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক মনে করেন, দৃশ্যমান এই গল্পের বাইরে আরো অদৃশ্যমান গল্প রয়েছে। তিনি এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘গল্পের প্রতিটি লাইনে অনেক কিছু রয়েছে। এখনো পুরো গল্প প্রকাশিত হয়নি। কারণ, কেপ টাউনের চেঞ্জ রুমটি খুবই ছোট।’
এদিকে অসি মিডিয়ার সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ওয়ার্নার। এই কেলেঙ্কারির জন্য তাকেই দায়ী করা হচ্ছে। সেখানকার গণমাধ্যমে তাকে ড্রেসিং রুমে ‘ভয়াবহ দ্বন্দ্ব’ সৃষ্টির মূল হোতা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এথিকস কমিটির কর্মকর্তারাও দায়ী করেছেন তাকে। তিনি মিচেল স্টার্ক ও জস হ্যাজেলউডকেও জড়িয়েছেন।
তারা জানায়, নিজের ওপর থেকে উত্তাপ কমানোর জন্য ওয়ার্নার ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের জড়িয়েছেন। তবে আবেগতাড়িত হয়েও ওয়ার্নারকে কখনো ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় সোচ্চার হয়েছে পৃষ্ঠপোষকরাও। ইলেক্ট্রনিক জায়ান্ট এলজি বুধবার ওয়ার্নারকে তাদের ব্রান্ড এ্যাম্বাসেডর-এর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে। অন্যদেরও তাদের অনুসরণ করার সম্ভাবনা রয়েছে।