৩৪ বছর পর সিরিজ জিততে মরিয়া নিউজিল্যান্ড; রেকর্ড বাঁচাতে চায় ইংল্যান্ড

35
image_printPrint

ক্রাইস্টচার্চ, ২৮ মার্চ, ২০১৮ (বাসস/এএফপি) : দেশের মাটিতে সর্বশেষ ১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় করেছিল নিউজিল্যান্ড। এমনকি ইংলিশদের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ জয়ের রেকর্ডও সেই ১৯৯৯ সালে। তাই ইংলিশদের বিপক্ষে দীর্ঘদিন টেস্ট সিরিজ জিততে না পারার বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে মরিয়া কিউইরা। লক্ষ্য পূরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে নিউজিল্যান্ড। কারণ দাপট দেখিয়ে অকল্যান্ডে দিবা-রাত্রির প্রথম টেস্ট সহজে জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে কিউইরা। তাই ক্রাইস্টচার্চে শুরু হওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট জিতে ৩৪ ও ১৯ বছরের বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে চায় নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দীর্ঘদিন না হারার রেকর্ড ধরে রাখতে চায় ইংল্যান্ড। এমন লক্ষ্য নিয়েই আগামী ৩০ মার্চ (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা) মুখোমুখি হচ্ছে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড।
১৯৩০ সালে প্রথম টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয় নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। দ্বিপক্ষীয় লড়াই শুরুর পর ২০টির মধ্যে কোন সিরিজ জিততে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ২০টি সিরিজের মধ্যে ১৫টি জিতে নেয় ইংলিশরা। ৫টি হয় ড্র।
তবে ১৯৮৪ সালে নিজ মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় নিউজিল্যান্ড। এরপর ১৯৮৬ সালে ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে তাদের মাটিতেই প্রথমবারের মত সিরিজ জয়ের স্বাদ নেয় কিউইরা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয়বারের মত টেস্ট সিরিজ জিততে আবারো দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হয় নিউজিল্যান্ডকে। তবে ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয়বারের মত টেস্ট সিরিজ জিতে নেয় সফরকারী নিউজিল্যান্ড। এরপর আজ অবধি সাতটি সিরিজের মধ্যে কোনটিতেই জিততে পারেনি কিউইরা। এরমধ্যে ৪টি জিতে ইংল্যান্ড, ৩টি হয় ড্র।
তাই দীর্ঘদিন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিততে না পারার কাজটা এবার সম্পন্ন করতে চায় নিউজিল্যান্ড। শুধুমাত্র সিরিজই নয়, এখন ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশের স্বপ্নও দেখছে নিউজিল্যান্ড। অকল্যান্ডে দিবা-রাত্রির পর স্বাভাবিক সময়ে ফেরা এ টেস্ট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের কোচ আত্মপ্রত্যয়ী মাইক হেসন, ‘আমাদের সামনে সিরিজ জয়ের বড় সুযোগ, ড্র’র কথা চিন্তা করা যােবনা। এটি অনেক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ। গত ছয় মাস ধরে আমরা এই সিরিজ নিয়ে পরিকল্পনা করেছি এবং আগামী কয়েকদিন তা প্রমাণ করতে হবে।’
দেশের মাটিতে সর্বশেষ ১০ টেস্ট সিরিজের সাতটিই জিতেছে নিউজিল্যান্ড। একটি ড্র ও দু’টি সিরিজ হারে তারা। তবে সময়টা খারাপই যাচ্ছে ইংল্যান্ডের। সর্বশেষ ছয় টেস্টে জয়ের মুখ দেখেনি তারা। এখন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হারের দ্বারপ্রান্তে তারা। এবারের সিরিজ হারলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অতীত রেকর্ড ভেঙ্গে যাবে। তবে সেটি হতে দিতে চাননা ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুট, ‘ভালো ফলের আশা নিয়েই এখানে আমরা এসেছিলাম। কিন্তু প্রথম টেস্টে আমরা বাজে পারফরমেন্স করেছি। দ্বিতীয় টেস্টে দল ঘুড়ে দাঁড়াবে এবং সিরিজ হার এড়াবে। ক্রাইস্টচার্চে জিততে না পারলে অতীতের রেকর্ড আমাদের পক্ষে থাকবে না। তাই ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলত নামবো।’
এদিকে সাইড স্টেইন ইনজুরির কারণে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে খেলতে পারবেন না কিউই লেগ-স্পিনার টড অ্যাস্টল। তার জায়গায় দলে সুযোগ পেয়েছেন আরেক লেগ-স্পিনার ইশ সোধি। অকল্যান্ডের প্রথম টেস্টে এক ইনিংস বল করার সুযোগ পেয়ে ৩৯ রানে ৩ উইকেট নেন অ্যাস্টল। তবে অ্যাস্টলের না থাকা দলের জন্য ক্ষতিকর বলে জানান নিউজিল্যান্ডের কোচ হেসন, ‘অকল্যান্ড টেস্টে দলের জয়ে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রেখেছিলো অ্যাস্টল। দ্বিতীয় ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ৩টি উইকেট নিয়েছিলো সে। তার ইনজুরিতে পড়াটা দলের জন্য বড় ক্ষতি। আশা করছি, অন্যান্য বোলাররা তা পুষিয়ে নিবে।’
বোলারদের উপর নির্ভর করতেই পারেন হেসন। কারন প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে দুই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট ও টিম সাউদি একাই গুড়িয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ড। বোল্ট ৬ ও সাউদি ৪ উইকেট নেন। ফলে ৫৮ রানে গুটিয়ে যায় ইংলিশরা। দ্বিতীয় ইনিংসেও নিউজিল্যান্ড বোলারদের নৈপুণ্য অব্যাহত ছিলো। ৩২০ রানে ইংল্যান্ডকে গুটিয়ে দিয়ে ইনিংস ও ৪৯ রানে ম্যাচ জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড।
নিউজিল্যান্ড দল : কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), ইশ সোধি, ট্রেন্ট বোল্ট, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, ম্যাট হেনরি, টম লাথাম, হেনরি নিকোলস, জিত রাভাল, টিম সাউদি, রস টেইলর, নিল ওয়াগনার ও বিজে ওয়াটলিং।
ইংল্যান্ড দল : জো রুট (অধিনায়ক), মঈন আলী, জেমস এন্ডারসন, জনি বেয়ারস্টো, স্টুয়ার্ট ব্রড, অ্যালিষ্টার কুক, জ্যাক লিচ, বেন ফোকস, লিয়াম লিভিংস্টোন, ডেভিড মালান, ক্রেইগ ওভারটন, বেন স্টোকস, মার্ক স্টোনম্যান, জেমস ভিন্স, ক্রিস ওকস ও মার্ক উড।