ই-বিআইএন গ্রহণের সময় বাড়লো ৩০ জুন পর্যন্ত

44
image_printPrint

ঢাকা, ২৮ মার্চ, ২০১৮ (বাসস) : দেশের অধিকাংশ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভ্যাট অনলাইন নিবন্ধনের বাইরে থাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অনলাইনে ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা (ই-বিআইএন) গ্রহণের সময়সীমা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান এখনও ৯ ডিজিটের ই-বিআইএন গ্রহণ করেনি,তারা অনলাইনে নিবন্ধনের জন্য আরো ৩ মাস সময় পাবেন। একই সঙ্গে অনলাইনে ভ্যাট আহরণ ৩০ জুন পর্যন্ত পিছিয়ে গেল। আগামী ৩১ মার্চ ছিল অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনের নির্ধারিত সময়সীমা।
বুধবার এনবিআর অনলাইনে ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা (ই-বিআইএন) ব্যবহার সংক্রান্ত এক নির্দেশনায় এই সময় বাড়ানোর বিষয় জানায়। এতে উল্লেখ করা হয়, গতবছর ২৮ ডিসেম্বর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আইন-১৯৯১ এর আওতায় বিআইএন ব্যবহার সংক্রান্ত একটি গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।তাতে সকল ক্ষেত্রে বিআইএনের ব্যবহার সময়সীমা ৩১ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল, এখন তা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হলো।
এ বিষয়ে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও এনবিআর সদস্য মো. রেজাউল হাসান বাসসকে বলেন, ভ্যাট আইন-১৯৯১ এর আওতায় সাড়ে ৮ লাখের বেশি নিবন্ধন রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৯২ হাজার প্রতিষ্ঠান অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে। ফলে এখনও বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান ই-বিআইএন গ্রহণ করেনি।এ কারণে ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা (বিআইএন) ব্যবহারের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি জানান, অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইনে নিবন্ধনের বাইরে থাকায় নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী অনলাইনে ভ্যাট আহরণ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হলো না।
সব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে করজালের আওতায় নিয়ে আসা,অস্তিত্বহীন বা ভুয়া নিবন্ধন বন্ধ এবং নিবন্ধন গ্রহণের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, দ্রুততর ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে এনবিআর গতবছরের ২৩ মার্চ অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করে। ১১ ডিজিটের পুরনো ভ্যাট নিবন্ধন বাতিল করে সব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইনে ইবিআইএন গ্রহণ বাধ্যতামুলক করা হয়।
রেজাউল হাসান বলেন, বিদ্যমান সনাতনী ভ্যাট ব্যবস্থায় সাড়ে ৮ লাখ বিআইএন গ্রহণকারী ব্যবসায়িক সত্তা থাকলেও প্রতি মাসে মাত্র ৩৬ হাজার করদাতা নিয়মিত দাখিলপত্র প্রদান করেন। ফলে অনেক অস্তিত্বহীন নিবন্ধিত করদাতা যেমন রয়েছেন, তেমনি ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলমান থাকা সত্ত্বেও অনেক করদাতা নিয়মিত দাখিলপত্র প্রদান করেন না বা করজালের বাইরে অবস্থান করছেন। সার্বিকভাবে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং নিবন্ধন গ্রহণের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, দ্রুততর ও হয়রানীমুক্ত করার লক্ষ্যে মুলত অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা হয়।
তিনি বলেন,যেহেতু আমরা ইতোমধ্যে অনলাইন অবকাঠামো তৈরি করেছি, সুতরাং রিটার্ন দাখিলসহ আরো কিছু কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনা করা যাবে। এছাড়া ই-বিআইএন বাধ্যতামূলক হওয়ায় দেশে মোট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সংখ্যা নিরুপন করা সম্ভব হবে।
অনলাইনে সেবা নেওয়ার জন্য ভ্যাট নিবন্ধন বা ই-বিআইএন নেওয়ার বিষয়টি অনেকটা অনলাইনে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএনের মতো।ভ্যাট নিবন্ধন ওয়েবসাইটের ঠিকানা ঠধঃ.মড়া.নফ।