বান্দরবানে নদী-খালের চরে বাদামের আবাদ

78

বান্দরবান, ২৬ মার্চ, ২০১৮ (বাসস) : জেলার নদীর-খালের চরগুলোতে মৌসুমী ফসল বাদাম চাষ বেড়েছে। ফলে বাদাম চাষিরা ক্রমেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। চাষিরা এখন মহাব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ক্ষেত থেকে বাদাম সংগ্রহ এবং শুকানোসহ বিকিকিনিতে। প্রতি বছরের মতো এবারো জেলার সদর, লামা, রুমা, থানচি, রোয়াাংছড়ি, আলীকদম এবং নাইক্ষংছড়ি উপজেলায় সাংগু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদী-খালের চরগুলোতে ব্যাপক হারে বাদাম চাষ হয়েছে। বিশেষ করে মার্চ মাসেই ক্ষেত থেকে চাষিরা বাদাম উত্তোলন করে শুকায় এবং বিকিকিনিতে ব্যস্ত সময় কাটায়।
জেলার রুমা উপজেলার রুমাচর গ্রামের বাদাম চাষি মইছা প্রু মারমা, সামাচিং মারমা এবং কৈয়াচিং মারমা জানান, চলতি মৌসুমে বাদামের আবাদ বেশি হয়েছে সেই সাথে ক্ষেতে উৎপাদিত হয়েছে বাদাম আশানুরুপভাবে। কম খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় নদী-খালের চরে বাদামের আবাদ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও তারা জানান। ফলে চাষিরা ঝুঁকছে বাদাম চাষের দিকে।
বান্দরবান সদরের লাংগিরচর এবং ভাংগামুড়া গ্রামের বাসিন্দা ও বাদাম চাষি মাহবুব আলম, শৈহ্লাচিং মারমা এবং বাদল দাশ বলেন, প্রতিবছর অক্টোবর মাস থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত উন্নতমানের বাদামের বীজ বপন করা হয় ক্ষেতে। পরে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্তক্ষেত থেকে পরিপক্ক হওয়া গাছ থেকে বাদাম সংগ্রহ করা যায়। এখন ভরা মৌসুম বাদাম তোলার। বালি মিশ্রিত দোআঁশ মাটি বাদাম চাষে উপযোগী বেশি। তাই সেভাবেই নদী-খালের চরগুলোতে বাদামের আবাদ করা হয় ফি বছরই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, বান্দরবানের নদী-খালের চর কিংবা দুই তীরের মাটি বাদাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বালি-মাটি মিশ্রিত মাটির প্রকৃতি নরম হওয়ায় বাদাম চাষ করা যায় সহজেই কম খরচে। মাটি উর্বর হওয়ায় অতিরিক্ত সার কিংবা কীটনাশক তেমন প্রয়োগ করতে হয় না। বীজ বপণের তিন মাসের মধ্যেই পরিপূর্ণ বাদাম ফলে ক্ষেতে। উপ-পরিচালক আরো জানান, গতবছর জেলায় ৮৫৯ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে আবাদ হয়েছে ৯৭১ হেক্টর জমিতে।
কৃষকরা বলছেন, প্রতিবছর এ সময় চাষিরা মরিচ, বেগুন, আলু, শীম, কফিসহ রকমারী কৃষিপণ্যের চাষ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও তুলতামূলক কম খরচের কারণে এবং বেশি লাভের আশায় বাদাম চাষের দিকে এগুচ্ছে চাষিরা ক্রমেই। প্রতিবিঘা জামিতে ১৮ কেজি বাদামের আবাদের বিপরীতে উৎপাদন হয় ৭-৮ মণ বাদাম। শুকনা বাদাম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকা হারে। সে হিসেবে বাদাম চাষিরা প্রতি মৌসুমে তাদের ক্ষেতে কেবল বাদাম চাষ করে বাড়তি আয় করতে পারেন কমপক্ষে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা।
সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের কেয়ামলং গ্রামের বাদাম চাষি চিংহ্লা প্রু মারমা এবং জাইসাং মারমা এ তথ্য দিয়েছেন। তারা বলছেন, বান্দরবান জেলায় উৎপাদিত বাদাম দেশের নানা স্থানে পাইকারে ক্রেতারা কিনে সরবরাহ করছে। জেলায় উৎপাদিত বাদাম উন্নতমানের এবং পুষ্টিও বেশি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্যগত ক্ষতিকারক তামাক চাষ বদল করে জেলার কৃষক বাদাম চাষের দিকে ঝূঁকে পড়ছে বলেও স্থানীয় সমাজ নেতারা জানিয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাঠ কর্মকর্তা ক্য হ্লা উ মার্মা বলেন, জেলায় উৎপাদিত বাদামের জাতের মধ্যে রয়েছে- ত্রিদানাঢাকা-১, ঝিঙ্গাবারি-৫ ও স্থানীয় জাতের। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উদ্যোগে এবারে জেলায় ৩৫০ জন বাদাম চাষিকে ২০ কেজি করে উন্নয়ত মানের বীজ প্রদান করা হয়। ৫০ জন চাষিকে ৫০টি প্রদর্শনী বাদাম প্লটের ব্যবস্থা করে দিয়েছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য মতে গতবছর জেলায় ৮৫৯ হেক্টর জমিতে ১হাজার ৯৮৬ মেট্রিক টন বাদাম উৎপন্ন হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ৯৭১ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৭শ’মেট্রিক টন বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

image_printPrint