রানের পাহাড় গড়েও অস্বস্তিতে হ্যাট্টিক জয় চট্টগ্রামের

199

চট্টগ্রাম, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ (বাসস) : অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেন্ডন সিমন্সের ঝড়ো দু’টি হাফ-সেঞ্চুরিতে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেটের ১২তম ম্যাচে ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২২১ রানের পাহাড় গড়ে স্বাগতিক চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। কিন্তু রানের পাহাড় গড়েও অস্বস্তিতে জয় তুলে নিতে হলো চট্টগ্রামকে। কারন ২২১ রানের টার্গেটে দুর্দান্ত জবাব দিয়ে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলো ঢাকা। শেষ পর্যন্ত অবিস্মরনীয় জয়ের স্বাদ নিতে পারেনি মাশরাফির ঢাকা। টার্গেটের খুব কাছে গিয়ে ২০ ওভারে ২০৫ রানে অলআউট হয় ঢাকা। ফলে ১৬ রানে ম্যাচ জিতে নেয় চট্টগ্রাম। এবারের আসরে টানা তৃতীয় জয় চট্টগ্রামের। ৫ খেলায় ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম। ৪ খেলায় ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে ঢাকা।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং বেছে নেন ঢাকার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রথম ওভারে বল হাতে আক্রমনে আসেন মাশরাফি। ঐ ওভার থেকে ১২ রান তুলে নেন চট্টগ্রামের দুই বিদেশী ওপেনার ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেন্ডন সিমন্স ও শ্রীলংকার আবিস্কা ফার্নান্দো। মাশরাফির দ্বিতীয় ওভার থেকে ১৫ রান তুলে সিমন্স।
মাশরাফির সাথে বোলিং উদ্বোধন করা সালাউদ্দিন শাকিলকেও ছাড় দেয়নি চট্টগ্রামের দুই ওপেনার। প্রথম ২ ওভারে মাশরাফি ২৭ ও শাকিল ১৮ রান দেন। ফলে চার ওভার শেষে ৪৫ রান উঠে চট্টগ্রামের স্কোর বোর্ডে।
পঞ্চম ওভারে বোলিং আক্রমনে পরিবর্তন আনেন মাশরাফি। ডান-হাতি পেসার হাসান মাহমুদ আক্রমনে এসেই ফার্নান্দোকে শিকার করেন। ১৩ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৬ রান করেন ফার্নান্দো।
ফার্নান্দো ফিরলেও, সিমন্সের মারমুখী মেজাজ অব্যাহত ছিলো। তাই সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি মেরে ২৪তম বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সিমন্স। অর্ধশতক করে ৩৬ বলে ৫৭ রানে থামেন তিনি। আজও রান আউট হবার ইনিংসে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন সিমন্স।
১০ দশমিক ২ ওভারে ১০১ রানে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন সিমন্স। তার আগ্রাসী ব্যাটিং-এর পথ অনুসরণ করেন চট্টগ্রামের পরের দুই ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। রান তুলেছেন ঝড়ো গতিতে। তৃতীয় উইকেটে ২৭ বলে ৬২ রান যোগ করেন তারা। ২৪ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪০ রান করে আউট হন ইমরুল। তবে ২৪ বলে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মাহমুদুল্লাহ। শেষ পর্যন্ত হাসানের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ২৮ বলে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৯ রান করেন মাহমুদুল্লাহ।
মাহমুদুল্লাহ যখন আউট হন তখন দলের স্কোর ১৯১ রান। ইনিংসে ১২টি বল বাকী ছিলো। এ অবস্থায় দলের স্কোর দু’শ অতিক্রম করান ওয়েস্ট ইন্ডিজের চাঁদউইক ওয়ালটন। শেষদিকে, ১৮ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় অপরাজিত ২৭ রান করেন তিনি। উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান ৪ বলে ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। ঢাকার হাসান ৫৫ রানে ২ উইকেট নেন।
২২১ রানের পাহাড়ে চড়ে ঢাকাকে বিশাল টার্গেট দেয় চট্টগ্রাম। টার্গেট স্পর্শ করতে বিপিএলে রেকর্ড গড়তে হতো ঢাকাকে। তবে সেটি টার্গেট স্পর্শ করতে দ্বিতীয় ওভারেই এনামুল হককে হারায় ঢাকা। ১ রান করেন তিনি। এরপর ঢাকার মিডল-অর্ডারে জাকের আলী ২৭, ইংল্যান্ডের লরি ইভান্স ১৭ ও পাকিস্তানের আসিফ আলি ১৫ রান করে ফিরেন। তবে অন্যপ্রান্ত আগলে খেলে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন এবারের আসরে প্রথম খেলতে নামা মোমিনুুল হক। তামিমের পরিবর্তে খেলতে নেমে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৫ বলে ৫২ রান করেন মোমিনুল।
ব্যাট হাতে ব্যর্থতা অব্যাহত রেখেছেন পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদিও। ৯ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। আফ্রিদির বিদায়ে উইকেটে যান অধিনায়ক মাশরাফি। ততক্ষণে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ঢাকা। কারন ৩৩ বলে ৭৬ রান দরকার পড়ে ঢাকার। হাতে ছিলো ৪ উইকেট।
স্ট্রাইকে গিয়ে ১৬তম ওভারের প্রথম তিন বলে চট্টগ্রামের স্পিনার নাসিরকে পরপর ছক্কা মারেন মাশরাফি। চতুর্থ বলে বাউন্ডারি তুলে নেন। এতে জয়ের সমীকরন অনেকাংশেই কমে আসে ঢাকার। কিন্তু পঞ্চম বলে আবারো ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন মাশরাফি। ৩৮৩ স্ট্রাইক রেট নিয়ে ৬ বলে ২৩ রানে থামেন মাশরাফি।
মাশরাফির আউটের পর ঢাকার জয়ের আশা জাগিয়ে রেখেছিলেন শ্রীলংকার থিসারা পেরেরা। চার-ছক্কায় শেষ ৬ বলে জয়ের ব্যবধান ২১ রানে নামিয়ে আনেন পেরেরা। কিন্তু চট্টগ্রামের পেসার মেহেদি হাসান রানার শেষ ওভার থেকে মাত্র ৪ রান নিতে পারেন পেরেরা। ফলে ম্যাচটি হারতে হয় ঢাকাকে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউটপ হবার আগে ২৭ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪৭ রান করেন পেরেরা। চট্টগ্রামের রানা ও মুক্তার ৩টি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স : ২২১/৪, ২০ ওভার (মাহমুদুল্লাহ ৫৯, সিমন্স ৫৭, হাসান ২/৫৫)।
ঢাকা প্লাটুন : ২০৫/১০, ২০ ওভার (মোমিনুল ৫২, পেরেরা ৪৭, রানা ৩/২৩)।
ফল : চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ১৬ রানে জয়ী।

image_printPrint