বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে : প্রধান বিচারপতি

102

ঢাকা, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ (বাসস): প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে। আমরা আপিল বিভাগে এমন অবস্থা আগে কখনো দেখিনি। অর্ডার দেয়া হয়ে গেছে। এজলাসে বসে আদালতের পরিবেশ নষ্ট করবেন না।
বেগম খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল ও জামিন সংক্রান্ত আবেদনের শুনানির দিন ধার্যের আদেশ দেয়ার পরও আদালতকক্ষে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের হট্রগোলের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি এটিকে নজিরবিহীন বলেও উল্লেখ করেন।
এর আগে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানির জন্য উত্থাপিত হলে আজ এটর্নি জেনারেল বলেন, বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়ায় স্বাস্থ্য বিষয়ে কিছু পরীক্ষা হয়েছে, কিছু বাকি আছে। তাই প্রতিবেদন দিতে সময় দরকার। এরপর আদালত ১১ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়ে বিষয়টির শুনানি ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেন।
এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন প্রতিবেদন রোববার বা সোমবার (৮ বা ৯ ডিসেম্বর) দিতে নির্দেশনার আবেদন জানান। কিন্তু তারিখ পরিবর্তন করেননি আদালত।
এর পরপরই বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালত কক্ষে হইচই শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিচারকরা এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন। বিরতির পর ফের আদালত বসলে এডভোকেট জয়নুল আবেদীন শুনানি করতে চান। কিন্তু আদালত তাতে সায় দেননি।এর মধ্যে হট্টগোলের কারণে অন্য মামলার শুনানিও ব্যাহত হয়।
এদিকে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা হট্রগোল করে আদালতের ওপর অবৈধ চাপ সৃষ্টির পাঁয়তারা করেছেন। তাদের এ তৎপরতা আদালত অবমাননার শামিল। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, গত ২৮ নভেম্বর খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন করা হয়েছিল বিশেষভাবে তাঁর স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে। তখন আপিল বিভাগ তাঁর স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা জানতে চেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে একটি স্বাস্থ্যগত রিপোর্ট চেয়েছিলেন। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেহেতু খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয়ে নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে, তাই এর রিপোর্ট দিতে সপ্তাহখানেক সময় লাগবে। আদালত যখন এ বিষয়টি জানিয়ে আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য করলেন, তখনই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতে চরম হট্টগোল ও গন্ডগোল শুরু করলেন।
মাহবুবে আলম বলেন, তাঁরা যে বিশৃঙ্খলার শুরু করেছেন, এটা নজিরবিহীন । এ ধরনের বিশৃঙ্খলা ন্যাক্কারজনক। এভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানান এটর্নি জেনারেল।

image_printPrint