বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-চীন যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

389

ঢাকা, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগসহ বাণিজ্য ও পর্যটন বিকাশে অন্যান্য প্রতিবেশি দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ইউনান প্রাদেশিক কমিটির সম্পাদক চেন হাওয়ের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবন কার্যালয়ে সাক্ষাতকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সঙ্গে সরকারের সফর বিনিময়ের পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সিপিসি’র সদস্যদের মধ্যে সফর বিনিময় হতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের একজন মহান বন্ধু। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ওপরও আলোকপাত করেন।
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ বি এম সারওয়ার-ই-আলম সরকার সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ থাকায় চীনের ইউনান প্রদেশের উদ্যোক্তারা এখানে আরো বিনিয়োগ করবেন। প্রতিনিধিদলের নেতা চেন হাও বলেন, ইউনান প্রদেশের আরো উদ্যোক্তা বাংলাদেশে বিনিয়োগে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বিকাশে দু’দেশ কাজ করছে। চেন হাও গত বছর ইউনান প্রদেশে অনুষ্ঠিত পঞ্চম চীন-দক্ষিণ এশিয়া প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি চীনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এবং বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডরের প্রতি সমর্থন প্রদানের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। এ দু’টি উদ্যোগ চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করবে।
সিপিসি নেতা জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ অর্জিত হওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেন, ইউনান প্রদেশের প্রবৃদ্ধিও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
চেন হাও বলেন, ৭৫০ জন বাংলাদেশ ছাত্র-ছাত্রী প্রাদেশিক সরকারের বৃত্তি নিয়ে ইউনান প্রদেশে পড়াশোনা করছে। তিনি ২০১০ ও ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরকালে তার সঙ্গে বৈঠকের কথা স্মরণ করেন।
এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন। ৮ সদস্যের চীনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংও উপস্থিত ছিলেন।