বাসস প্রধানমন্ত্রী-৭ (প্রথম কিস্তি) : দুর্নীতি বিরোধী অভিযান ‘আইওয়াশ’ নয় : প্রধানমন্ত্রী

233

বাসস প্রধানমন্ত্রী-৭ (প্রথম কিস্তি)
শেখ হাসিনা-প্রশ্নোত্তর
দুর্নীতি বিরোধী অভিযান ‘আইওয়াশ’ নয় : প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের ব্যাপক দুর্নীতি বিরোধী অভিযানকে ‘আইওয়াশ’ বলে বিএনপি’র আশংকাকে উড়িয়ে দিয়ে এই অভিযানের শেষ অবদি দেখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে ‘আইওয়াশ’ করতে যাব কিসের জন্যে। আমিতো কোন আপন পর দেখিনি। হ্যাঁ যারা অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তারা যেই হোক আমরা তাদেরকে ধরছি। সেটাকে তারা ‘আইওয়াশ’ বলে কেন? ঐসব আইওয়াশের বিষয়টা বিএনপিই ভাল জানে। দেশটাকে দুর্নীতিতে নিয়ে আসা, দুর্নীতিকে একেবারে নীতিতে পরিণত করা সেটাতো বিএনপি’রই করা।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ন্যাম সম্মেলন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এদেশে মানি লন্ডারিং থেকে শুরু করে ঋণ খেলাপি কালচার, মেধাবী যুব সমাজের হাতে অস্ত্র ও অর্থ তুলে দিয়ে তাদেরকে বিপথে নিয়ে যাওয়া,সন্ত্রাসি বানানো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্ত্রের ঝনঝনানি-জিয়াউর রহমানই শুরু করে গেছে। এরপর যিনি আসলেন এরশাদ, তিনি আরো একধাপ উপরে। আর তারপরে খালেদা জিয়াতো দোকানই খুলে বসলো। একদিকে হাওয়া ভবন এবং অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উন্নয়ন উইং। উন্নয়ন মানে হলো ঘুষ খাওয়ার উইং। কিন্তু আমরা সরকারে আসার পরতো এ সমস্ত কিছু হয়নি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘কাজেই এটাকে আইওয়াশ তারা বলে যাচ্ছে, ঠিক আছে দেখেন, অপেক্ষা করেন, ‘আইওয়াশ’ না কি তা দেখা যাবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলীয় জোটের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থাসহ গণমাধ্যমের সম্পাদক এবং সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মূল যারা, আসল যারা দুর্নীতিবাজ, তারা দু’জনতো শাস্তি পেয়েই গেছে, খালেদা জিয়া এবং তার ছেলে। এছাড়া তাদের (বিএনপি) আরো অনেকে দুর্নীতি, অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ খুনসহ বহু অপরাধে অপরাধী। পর্যায়ক্রমে সকলেই শাস্তি পাবে। সাজা তাদের পেতে হবে, এর জন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে। তবে, তারাও শাস্তি পাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।’
রাজনীতিবিদ ছাড়াও অন্য পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা সময়ই বলে দেবে, আসলে বেছে বেছে ক্রাইটেরিয়া ঠিক করেতো ধরা হচ্ছে না। যখন যেটা পাওয়া যাচ্ছে সেটাকেই ধরা হচ্ছে। ধরা পড়ার পরে না বোঝা যাচ্ছে কে কি। কাজেই অভিযান যখন চলছে তখন যখন যেটা বের হওয়ার তা বের হবে।’
তিনি বলেন, ‘অপরাধী অপরাধীই তার দলও নাই, কিছুই নাই। কাজেই যেই অপরাধ করুক অবশ্যই আমরা ধরবো, ধরা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাবার আদর্শ অনুসরণ করে ভয়-ডরবিহীন রাজনীতি করেন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই দেখেছি আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিভাবে সাহসের সাথে রাজনীতি করে এই বাংলাদেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কাজেই ‘ভয়’ এই শব্দটা আমার নেই, ছোটবেলা থেকেই নেই। আর ভয় পাওয়ার লোক আমি নই। ভয় পেলে এই অভিযানে (দুর্নীতি বিরোধী) অভিযানে আমি নামতাম না।’ তিনি বলেন, ‘আমি যথন এখানে রয়েছি তখন অপরাধী কে, কোন দলের সেটা আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়। আর আমিতো আগেই বলেছি শুরু করলে তা ঘর থেকেই করতে হয়। নইলেতো বলবে যে, রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য আমরা করছি, তাতো না।’
সরকার প্রধান বিএনপি প্রসঙ্গে বলেন, তারাতো দুর্নীতির খনি। এদেশের দুর্নীতির যাত্রা শুরুইতো ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরুর এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে। শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধভাবে দখল করা ক্ষমতাকে নিষ্কন্টক করার জন্য বাংলাদেশের দুর্নীতির দুয়ার খুলে দিয়েছিল জিয়াউর রহমান। আর তার হাতে গড়া দল এই বিএনপি। আর সেখানে দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, খুন, মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে এবং দলের প্রধান দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে এখন কারাগারে। যাকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিল সেও দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দেশান্তরী। তাদের মুখে এত বড় বড় কথা শোভা পায় না।
চলবে/বাসস/এএসজি-এফএন/২২১০/-কেএমকে