মেহেরপুরে আম গবেষণাগার স্থাপনে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে : এমপি ফরহাদ হোসেন

68

মেহেরপুর, ২৪ মার্চ, ২০১৮ (বাসস) : জেলার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রশ্নে সুস্বাদু আমের জেলা মেহেরপুরে আম গবেষণাগার এলাকার মানুষের দাবি। এজন্য মেহেরপুরে আম গবেষণাগার স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আম প্রসঙ্গে মেহেরপুর-১ আসনের এমপি অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন সম্প্রতি বাসসকে একথা বলেন। তিনি বলেন- এলাকায় আম বাগানের উন্নয়ন, ফলন বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং নতুন জাত সম্প্রসারণে নতুন কলাকৌশল ব্যবহার করার জন্য মেহেরপুরে একটি আম গবেষণাগার স্থাপন হলে পার্শ্ববর্তী জেলাতেও আমবাগান সম্প্রসারণ হবে। তিনি কৃষি বিভাগের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, জেলায় এবার ৩০ হাজার হেক্টর জমির আমবাগান থেকে ৪১ হাজার মেট্টিক টন আম উৎপাদন হবে। যা থেকে ১৫৫ কোটি টাকার আম বেচাকেনার হবে বলে আশা করা যায়।
জেলার ১১ হাজার আমচাষি এখন ৭ হাজার ছোট বড় বাগানের আম বাগান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্বাদে ও গন্ধের দিক থেকে মেহেরপুরের আম বিখ্যাত। এখন মেহেরপুর জেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সব জাতের আমেরই চাষ হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছর কৃষি জমিতে তৈরি করা হচ্ছে আমের বাগান।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. আক্তারুজ্জামান জানান, নিয়মিত জাত ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাতি, হিমসাগর ও আশ্বিনা জাতের বেশি আম বাগান মেহেরপুরে। বর্তমানে গবেষণাকৃত বারি-৩, বারি-৪ জাতের বাগান তৈরির ক্ষেত্রেও আগ্রহী হয়ে উঠছে অনেকে। সেসব আমও ইউরোপিয়ানভুক্ত দেশে রফতানি করা হয়। এছাড়া নতুন বারি জাতের ‘ম্যাংজ্ঞো ব্যানানা’ আমের চাহিদা ব্যাপক। এ জাতের আম জুলাই-আগস্টে পাকে। অসময়ে এবং সুস্বাদুর কারণে ‘ম্যাংজ্ঞো ব্যানানা’ আমের চাহিদা বেড়েছে। তিনি আরও জানান, এ এলাকায় আম বাগানের উন্নয়ন, ফলন বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং নুতন জাত সম্প্রসারণে নুতন কলা-কৌশল ব্যবহার করার জন্য একটি আম গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা দরকার। এছাড়া মেহেরপুর যে কৃষি খামার গড়ে ওঠেছে তাতে আম গবেষণা কেন্দ্রও গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য শুধু পরিকল্পনার দরকার।
বাসস/সংবাদদাতা/১০১৫/জহ/নূসী

image_printPrint