ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে সংসদ সদস্যসহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

181

সংসদ ভবন, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে বাসা-বাড়ির চারপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সংসদ সদস্যসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্যসহ দেশবাসী সকলকেই নিজ নিজ জায়গা, ঘর এবং ঘরের আশপাশের জায়গা যাতে পরিচ্ছন্ন থাকে এবং পানি জমতে না পারে সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিতভাবে আমরা সকলে প্রচেষ্টা চালালে মানুষ সচেতন হবে। তিনি বলেন, এয়ারকন্ডিশনের পানিতে, কমোডের ঢাকনা খোলা থাকলে এবং ফ্রিজের নিচের জমে থাকা পানিতে লার্ভা জন্ম নিতে পারে, আমরা সকলে সচেতন হলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা আজ সন্ধ্যায় একাদশ জাতীয় সংসদের ৪র্থ অধিবেশনে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজির এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ডেঙ্গু রোগ সৃষ্টিকারী এডিস মশার লার্ভা কোথাও জমে থাকা পানি শুকিয়ে গেলেও লার্ভাটা থেকে যেতে পারে। এ অবস্থায় কয়েক সপ্তাহ জিবীত থাকে এবং পরবর্তীতে এক ফোঁটা পানি পেলে পুনরায় জীবিত হয়। এজন্য বাড়ির চারপাশ ভালভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, এডিস মশার একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি অপরিষ্কার পানিতে নয়, স্বচ্ছ পানিতে বংশ বিস্তার করে।
গণফোরামের সংসদ সদস্য সুলতান আহমেদ মনসুরের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ যখন ভোট দিয়ে আমাকে প্রধানমন্ত্রী করেছে, তখন আমি যেখানেই থাকি না কেন সবসময় মনে করি জনগণের ভালমন্দ দেখাটা আমার দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাত্র ৫ ঘন্টা ঘুমের সময় ব্যতিত বাকি সময় দেশের ও জনগণের জন্য কাজ করেন। দেশের কোথায় কি হচ্ছে সেদিকে নজর রাখা তার দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ওষুধ ছেটানো নিয়ে সিটি কর্পোরেশনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, ‘ওষুধ কেনাও হয়েছে, দেয়াও হয়েছে। কিন্তু ডেঙ্গুটা কেবল বাংলাদেশ নয়, আমাদের আশপাশের দেশগুলোতেও ব্যাপকহারে দেখা দিয়েছে। ফিলিপাইনে মহামারী আকারে দেখা দিয়েছিল। সেখানে এক সপ্তাহে ৫শ’ লোক মারা গিয়েছে এবং সে দেশে জরুরি অবস্থা পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি তাঁর সরকার হতে দেয়নি এবং এ জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওষুধ কেনা কাটার সঙ্গে কারা দায়ী এবং ওষুধে সত্যিকারে কেন কাজ হয়নি, এর কারণ উদঘাটনে তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী অবশ্য এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির জন্য রোগের ধরণটাও আগের চাইতে বদলে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন ।
তিনি বলেন, এবার ডেঙ্গু রোগের ধরণ পাল্টে যাওয়ায় তাঁর সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ নিয়েছে এবং যেসব দেশে এই রোগ দেখা গেছে, সে সব দেশে তাঁরা প্রতিকারে কি ব্যবস্থা নিয়েছে সে সম্পর্কে ধারণা নিয়ে লার্ভা ধ্বংসের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশের মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

image_printPrint