বয়স ৬ মাস পর্যন্ত শিশুর জন্য বুকের দুধই যথেষ্ট

142

ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ (বাসস) : চার মাস আগে মা হয়েছেন সুরাইয়া। বিয়ের চার বছর পর পেলেন প্রথম মাতৃত্বের স্বাদ। স্বামী পলাশও খুব খুশি প্রথমবারের মত বাবা হয়ে। তিন জনের সংসার। নেই কোন ঝামেলা। বাসায় এখন তারা তিনজন। অন্য কেউ থাকেন না তাদের সাথে। আর তাই প্রথমবার মা হয়ে সুরাইয়া এখনো পর্যন্ত ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না কীভাবে বাচ্চা সামলানো যায়, তাকে কী কী খাবার দিতে হবে। বারবার ডাক্তারের কাছে যাওয়ার মত সামর্থ্যও নেই নতুন এই বাবা-মা’র। আর তাই চার মাস পরেই বাচ্চাকে বুকের দুধের পাশাপাশি খাওয়ানো শুরু করলেন পানি। তিন/চারদিন খাওয়ানোর পর পাশের বাসার ভাবীর কাছে জানতে পারলেন বাচ্চা ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধই পান করবে। এর চেয়ে আর বেশী কিছুই দরকার হয় না। ছয় মাস পর থেকে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবার দেয়া যায়।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের ডা. সাইদুর রহমান সোহাগ বলেন, শিশুর ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু বুকের দুধই যথেষ্ট। এর পরের মাস অর্থাৎ সাত বয়স থেকে বুকের দুধের পাশাপাশি তিন বেলা বাচ্চাকে বাড়তি খাবার দিতে হবে। তবে শুরুতে তার পরিমান একেবারেই কম। সেই খাবার বাচ্চা কতটুকু খেতে পারছে তা দেখতে হবে।
তিনি বলেন বাড়তি খাবার হিসেবে চাল, ডাল, বিভিন্ন রকমের সব্জি, মাছ, মাংস ও তেল দিয়ে খিচুড়ি, ডিমের কুসুম, বিভিন্ন রকমের ফল যেমান আপেল, পাকা পেঁপে, কলা ইত্যাদি। তবে খুব সাবধানে নতুন খাবার শুরু করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে এসব খাবার বাচ্চা খেতে পারছে কিনা।
শুরুতে দুই থেকে তিন চামচ খাবার দিতে হবে। এসব খাবার একেবারে পিষে তৈরি করতে হবে। তবে একেবারে পাতলা না করে সামান্য থকথকে করে রান্না করতে হবে। প্রথম কয়েকদিন এভাবে চলার পর প্রতি বেলায় খাবারের পরিমান একটু একটু করে বাড়াতে হবে।
ডা. সাইদুর বলেন, সব খাবার এক সাথে শুরু করা যাবে না। বাচ্চাকে খাবার দিতে হবে আস্তে আস্তে। প্রথম দিকে চাল এবং ডাল মিশিয়ে খিচুড়ি করে দেয়া যেতে পারে। এর কিছুদিন পর চাল এবং ডালের সাথে অল্প সবজি, তারপর এই তিন আইটেমের সাথে মাছ দেয়া যেতে পারে। আরো পরে চাল, ডাল এবং সবজির সাথে মাংস দেয়া যেতে পারে। তবে প্রতিবার খাবারের ম্যানু পরিবর্তন করার সময় দেখতে হবে বাচ্চা খাবারটি ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারছে কি-না। এসময় তার অন্য কোন রোগ যেমন ডায়রিয়া হচ্ছে কি-না তাও লক্ষ্য রাখতে হবে।
তিনি বলেন, অনেক সময় বাচ্চা খাবার খাওয়ার পরে বমি করে দিতে পারে। তবে এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। অনেক সময় বাচ্চারা বমি করে। তবে বারবার যদি বমি করে তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বাচ্চাকে খাবার দিতে হবে। প্রয়োজনে ওষুধও দিতে হতে পারে বাচ্চাকে।
তিনি বলেন, বাচ্চার এক বছর বয়স পর্যন্ত সবার আগে বুকের দুধ দিয়ে তারপর ভারী খাবার দিতে হবে। আর এক বছর পর থেকে প্রথমে ভারী খাবার তারপর বুকের দুধ দিতে হবে। আস্তে আস্তে খাবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্রতিদিন একই ধরনের খাবার তৈরি না করে একেক দিন একেক ধরনের খাবার তৈরি করে বাচ্চাকে খাওয়ালে ভাল। এছাড়াও বাচ্চার খাবার রান্না করার সময় অবশ্যই বেশি তেল দিয়ে রান্না করা ভাল। বাচ্চার এক বছর পর থেকে চর্বিযুক্ত খাবার দেয়া যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চা সেসব খাবার খেতে পারছে কি-না।
তিনি বলেন, এসময় বাচ্চাকে কোনভাবেই গরুর দুধ খাওয়ানো যাবে না। এজন্য দু’বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। দু’বছর পর থেকে বাচ্চাকে গরুর দুধ খাওয়ানো যায়। তবে বাচ্চাকে নতুন কোন খাবার দিলে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে।

image_printPrint