শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বল্পোন্নত বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে : সরকারি দল

105
image_printPrint

সংসদ ভবন, ২৪ জুন, ২০১৮ (বাসস) : প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি ও গতিশীল নেতৃত্বে মাত্র ৯ বছরে একটি স্বল্পোন্নত দেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে অধিবেশনের শুরুতে মন্ত্রীদের জন্য প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা-উত্তর টেবিলে উপস্থাপন শেষে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
গত ৭ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট আলোচনার সপ্তম দিনে আজ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, সরকারি দলের গাজী ম. ম আমজাদ হোসেন, মাহফুজুর রহমান, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শমভু, শফিকুল ইসলাম শিমুল, সুবিদ আলী ভূইয়া, এ কে এম রহমতুল্লাহ্, হাবিবে মিল্লাত, মনিরুল ইসলাম, এম, আবদুল লতিফ, রেজাউল করিম হীরা, মীর শওকাত আলী বাদশা, কাজী নাবিল আহমেদ, খন্দকার আজিজুল হক আরজু, ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া, আবুল কালাম মো. আহ্সানুল হক চৌধুরী, বেগম সিমিন হোসেন (রিমি), বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, মমতাজ বেগম, ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াসিন আলী, জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী, নাসরিন জাহান রত্না, বেগম রওশন আরা মান্নান, এডভোকেট বেগম সালমা ইসলাম ও বিএনএফ-এর এস এম আবুল কালাম আজাদ অংশ নেন।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বাজেট একগুচ্ছ সংখ্যার সমাহার বা পাটিগণিত নয়। বাজেট হচ্ছে অতীত ও বর্তমানের আর্থ-সামাজিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার চালচিত্র। বাজেটের পেছনে দর্শন, রাজনীতি ও আদর্শ থাকে। এবারের বাজেটের ওপর আলোকপাত করলে দেখা যায় সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তা এই তিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা এ বাজেটে করা হয়েছে। এই তিন খাতে বর্তমানের চাহিদা পূরণ ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বরাদ্দ রাখা হযেছে। মানুষের জীবন ও অর্থনীতির গতিময়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেকে বাজেটে সমালোচনার যুক্তিসঙ্গত কিছু না পেয়ে মনগড়া বিদ্বেষপ্রসূত সমালোচনা করেন। বাজেটকে অনেকে বড় বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বাজেটের আকার বড় এটা জাতির সক্ষমতার লক্ষণ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দারিদ্র্য কমে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশে আর মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫২ ডলারে, মানব সম্পদ সূচক বেড়েছে, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক কমেছে। এসব আমাদের উন্নত দেশের দিকে নিয়ে যেতে সহায়তা করছে।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র আর অন্তর্ঘাতমূলক নাশকতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তারা উন্নয়ন পছন্দ করেনা বলেই সেদিন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তারা উন্নয়ন পছন্দ করেনা। বিএনপি-জামায়াত হচ্ছে অন্ধকারের শক্তি। এরা উন্নয়ন ও শান্তির শত্রু। পক্ষান্তরে শেখ হাসিনা উন্নয়ন ও শান্তির দূত। উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিষ্ময়কর অগ্রযাত্রা রক্ষা করতে এবং এর সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে বৈষম্য অবসানের পদক্ষেপ নিতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে দুর্নীতি ও লুটেরাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। এজন্য তিনি বৈষম্য বিলোপ আইন, ইন্টারনেট অধিকার আইন, খাদ্য অধিকার আইন এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আইন এই চারটি আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, এই চারটি আইন বৈষম্য কমাবে এবং আমাদের সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাবে, সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং প্রথা এই ৯ বছরে যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটিয়েছে। ৩ হাজার নতুন শাখা গ্রামে এসেছে, অন্তর্ভুক্তি ব্যাংকিং প্রথা চালু হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থায়নে যে প্রবৃদ্ধি ঘটেছে তাতে এই ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার অবদান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে। আজ স্বল্প আয় থেকে বাংলাদেশ উন্নতশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাঁর নেতৃত্বে খাদ্য ঘাটতি থেকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে। দেশের সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে।
তিনি সন্ত্রাস, জঙ্গী, আগুন সন্ত্রাস নির্মূলে সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, এসবের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে সরকার তথা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত যোগ্যতা ও সাহসিকতার সাথে এসব নির্মূলে নিরলস কাজ করেছে। এর ফলে সাফল্য এসেছে।
তিনি দেশের উন্নয়নে মাদককে এখন প্রধান অন্তরায় উল্লেখ করে বলেন, সরকার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে কারা জাতি ধ্বংসকারী মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অনেককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার যে কোন মূল্যে দেশের যুব সমাজ তথা জাতিকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করবে। আর তাই এটা নির্মূলে যা যা করা দরকার তা করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অতীতের যে কোন সময়ের চাইতে শক্তিশালী করা হয়েছে। সরকারের দু’মেয়াদে পুলিশে ৮০ হাজার জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন করে পুলিশে কাউন্টার টেরোরিজম, সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ ইউনিট, পিবিআই, হাইওয়ে পুলিশসহ পুলিশের নতুন ইউনিট খোলা হয়েছে। উন্নত দেশের উপযোগী আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়তে একে ঢেলে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি বোর্ডার গার্ড ও কোস্ট গার্ডকেও ঢেলে সাজানো হয়েছে।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়’ এই নীতিকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান এখন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তৃণমূল পর্যায়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। এতো কিছুর পরও কিছু মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সংসদে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতাকে ভিডিও এডিটিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালানো হয়েছিল। তারা প্রচার করে, সরকার প্রবাসীদের আয়ের ওপর না-কি ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা, বরং প্রবাসীরা কিভাবে আরো সহজে দেশে তাদের অর্জিত টাকা পাঠাতে পারে সে ব্যবস্থাই সরকার করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান বিদেশে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন, এটা আমি প্রমাণ করে দিয়েছি। যার কাছে বাংলাদেশী পাসপোর্ট নেই, তার কাছে যদি বৃটিশ পাসপোর্ট থাকে এবং যদি বৃটিশ নাগরিক হিসেবে কোম্পানী রেজিষ্ট্রেশন করা থাকে তাহলে তাকে বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় না।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি অর্জনের সাথেই যুব সম্প্রদায়ের ভূমিকা ছিল। দেশের উন্নয়নে এই যুব সমাজকে যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। যুব সমাজের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকার যে ন্যাশনাল সার্ভিস কমিশন গঠন করেছে তা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বশ্রেষ্ঠ কর্মসংস্থানের প্লাটফর্ম হিসেবে দক্ষিণ এশিয়া যুব সম্মেলনে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১ কোটি ৯৩ লাখ যুবককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশই কর্মক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ৭৪টি ট্রেডে তরুন-তরুনীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের ঋণ দেয়ার মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন ক্রীড়ায় বিশ্বে একটি পরিচিত নাম। বাংলাদেশকে এখন বিশ্বের সবাই চিনে। আওয়ামী লীগ যখনই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকে তখনই ক্রীড়া ক্ষেত্রে একটি জাগরণ সৃষ্টি হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সময়েই বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা লাভ করে। এরপর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উৎসাহে এদেশের ক্রিকেট এগিয়ে যাচ্ছে।