বাজেটে সকল শ্রেণীর মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে : সরকারি দল

139

সংসদ ভবন, ২১ জুন, ২০১৮ (বাসস) : প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বাজেটকে জনকল্যাণমুখী উল্লেখ করে বলেছেন, এ বাজেটে দেশের সকল শ্রেণীর মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তারা এ বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে গিয়ে ২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবার পথকে আরো সুগম করবে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ বিকেল ৩টা ২১ মিনিটে অধিবেশনের শুরুতে মন্ত্রীদের জন্য প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা-উত্তর টেবিলে উপস্থাপন এবং আইন প্রণয়ন কার্যক্রম শেষে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
গত ৭ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট আলোচনার পঞ্চম দিনে আজ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সরকারি দলের আবদুর রহমান, এ বি তাজুল ইসলাম, কামরুল আশরাফ খান, মুহিবুর রহমান মানিক, মাহবুব আলী, ইউনুস আলী সরকার, আব্দুল মালেক, গোলাম মোস্তফা, মো. আবুল কালাম, আশেক উল্লাহ রফিক, ফরিদুল হক খান, বেগম ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা, বেগম ওয়াসিকা আয়শা খান, সেলিনা বেগম, বেগম সেলিনা আক্তার বানু, বেগম সাবিনা আক্তার তুহিন, সেলিনা জাহান লিটা, বেগম কামরুন নাহার চৌধুরী, জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, নুরুল ইসলাম তালুকদার, পীর ফজলুর রহমান ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মো. রুহুল আমিন অংশ নেন।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ বাজেট উপস্থাপনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত এই বাজেট দেশের মানুষের কল্যাণ ও অগ্রগতির ধারা বজায় রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই আজ বিশ্বের দরবারে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সিন্ধু বা বেলুচিস্তান বাংলাদেশের মতো এগিয়ে যেতে পারেনি। কারণ তাদের ওখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো নেতার জন্ম হয়নি। সেখানে শেখ হাসিনার মতো দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতার জন্ম হয়নি। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়েছেন আর তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা দিয়েছেন সমৃদ্ধ দেশ।
তিনি সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, বিধবা, বয়স্ক, হিজড়া, বেদে, মাতৃত্বকালীনসহ সামাজিক নিরাপত্তা খাতের পরিধি ও ভাতা বাড়ানো হয়েছে। বাজেটে বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৫ লাখ থেকে ৪০ লাখে বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিধবা ও স্বামী কর্তৃক নিগৃহীত মহিলা ভাতা ভোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৬৫ হাজার থেকে ১৪ লাখে বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১০ লাখে বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির হার বাড়িয়ে প্রাথমিক স্তরে ৫শ’ টাকা থেকে ৭শ’ টাকায়, মাধ্যমিক স্তরে ৬শ’ টাকা হতে ৭৫০ টাকায় এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৭শ’ টাকা হতে ৮৫০ টাকায় বৃদ্ধি এবং ভাতাভোগীর সংখ্যা ৮০ হাজার হতে ৯০ হাজার জনে বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উপবৃত্তির হার প্রাথমিক স্তরে ৩শ’ টাকা থেকে ৭শ’ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৪৫০ টাকা থেকে ৮শ’ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৬শ’ টাকা থেকে এক হাজার টাকা এবং উচ্চতর স্তরে এক হাজার থেকে এক হাজার ২শ’ টাকায় বৃদ্ধি, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৬ হাজার থেকে ৬৪ হাজারে উন্নীত এবং তাদের মধ্যে বিশেষ ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার থেকে ৪০ হাজারে এবং শিক্ষা উপবৃত্তির সংখ্যা ১১ হাজার থেকে ১৯ হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে ক্যান্সারের ওষুধের দাম কমানোয় ধন্যবাদ জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক দামি ব্র্যান্ডের সিগারেটের ওপর করারোপের দাবি জানান। তিনি স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমেছে। গড় আয়ু বেড়ে ৭২ বছর হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তান থেকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে।
তিনি বলেন, দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ১শ’টির বেশি মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয়েছে। নতুন আরো ১০টি মেডিকেল কলেজের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা-উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, আই ইনস্টিটিউট, শেখ হাসিনা বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং ইতোমধ্যে ১৫ হাজার নার্স নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বাকী ৫ হাজার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ৩ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, নিন্দুকেরা এবারও বাজেট নিয়ে অহেতুক সমালোচনা করে বলছেন এটা উচ্চাভিলাষী বাজেট, এটা বাস্তবায়নযোগ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাসিনার নেতৃত্বে অতীতের বাজেটগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তেমনিভাবে প্রস্তাবিত বাজেটও বাস্তবায়নযোগ্য।
জাতীয় পার্টির সদস্যরা সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের সমালোচনা করে বলেন, সরকারের আমলে ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে অনিয়ম হয়েছে। এ অনিয়মের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান।
তারা আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারো বিজয় অর্জিত হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

image_printPrint