বাসস ক্রীড়া-২২ : জয় দিয়ে মালিঙ্গার বিদায় দিলো শ্রীলংকা

বাসস ক্রীড়া-২২
ক্রিকেট-বাংলাদেশ
জয় দিয়ে মালিঙ্গার বিদায় দিলো শ্রীলংকা
কলম্বো, ২৬ জুলাই, ২০১৯ (বাসস) : দুর্দান্ত জয় দিয়ে লাসিথ মালিঙ্গাকে বিদায় দিল শ্রীলংকা। মালিঙ্গার শেষ ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯১ রানের জয় পায় লংকানরা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ছিলো এটি। দলের জয়ে ভূমিকা রেখেছেন মালিঙ্গাও। ৩৮ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। মালিঙ্গার বোলিং ঝলকের আগে বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান কুশল পেরেরার সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩১৪ রানের বড় সংগ্রহ পায় শ্রীলংকা। ৯৯ বলে ১১১ রান করেন পেরেরা। জবাবে মুশফিকের ৬৭ ও সাব্বির রহমানের ৬০ রানের পরও ৫০ বল হাতে থাকতে ২২৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপের ব্যর্র্থতা ভুলে নতুন ভাবে পথচলার যাত্রা শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করে বাংলাদেশ। তবে এ ম্যাচে বেশি রোমাঞ্চিত ছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ইনজুরির কারনে ও সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বিশ্রামে থাকাতে সফরে আসার আগ মূর্হুতে অধিনায়কত্ব পান তামিম। তাই বাংলাদেশের ১৪তম অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হয় তার। তবে অধিনায়কের শুরুটা ভালো হয়নি তামিমের। টস ভাগ্যে হারেন তিনি। তাই প্রথমে ফিল্ডিং-এ নামতে হয় বাংলাদেশকে।
ফিল্ডিং পাওয়ায় বাংলাদেশের বোলিং ওপেন করেন শেষ মুহূর্তে দলে সুযোগ পাওয়া ডান-হাতি পেসার শফিউল ইসলাম। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ পান তিনি। দু’টি স্লিপ রেখে নিজের প্রথম ওভারে মাত্র ২ রান দেন শফিউল। নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে শ্রীলংকার ওপেনার আবিস্কা ফার্নান্দোকে পরাস্ত করেন তিনি। এতে লেগ বিফোরের আবেদন করে বাংলাদেশ। আম্পায়ার সাড়া না দিলে, রিভিউ নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম। কিন্তু রিভিউতে ফার্নান্দোকে নট আউট ঘোষণা করেন অন-ফিল্ড আম্পায়ার। ফলে রিভিউ নষ্ট হয় বাংলাদেশের। এতে কিছুটা হলেও হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে।
তবে দ্রুতই বাংলাদেশের হতাশা মুছে দেন শফিউল। একই ওভারের পঞ্চম বলে ঐ ফার্নান্দোকে বিদায় দেন শফিউল। প্রথম স্লিপে থাকা সৌম্য সরকারকে ক্যাচ দিয়ে ৭ রানে আউট হন ফার্নান্দো। ফলে প্রায় সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডেতে উইকেট শিকারের স্বাদ নেন শফিউল। ২০১৬ সালের ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন তিনি। নিয়েছিলেন ৬১ রানে ২ উইকেট।
দলীয় ১০ রানে প্রথম ব্যাটসম্যান আউটের পর উইকেটে আরেক ওপেনার ও শ্রীলংকার অধিনায়ক দিমুথ করুনারতেœর সঙ্গী হন উইকেটরক্ষক পেরেরা। জুটি বেঁধে আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠেন এই দু’ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশ বোলারদের বিপক্ষে মারমুখী মেজাজ দেখান করুনারতেœ-পেরেরা। তাই ১০ ওভারেই ৭৭ রান পেয়ে যায় শ্রীলংকা। করুনারতেœ ২৩ বলে ২৯ ও পেরেরা ২৪ বলে ৩৫ রান করেন।
পরবর্তীতে এই জুটির কল্যাণে ১৪তম ওভারেই শতরানের কোটা স্পর্শ করে শ্রীলংকা। কিন্তু শতরানের কিছুক্ষণ পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যান করুনারতেœ-পেরেরা। এই জুটিতে ভাঙ্গন ধরান বাংলাদেশের অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। ৩৭ বলে ৩৬ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন করুনারতেœ। তার ইনিংসে ৪টি চার ছিলো। দ্বিতীয় উইকেটে ৭৩ বলে ৯৭ রান যোগ করেন করুনারতেœ-পেরেরা।
করুনারতেœ ফিরলে উইকেটে পেরেরার সঙ্গী হন কুশল মেন্ডিস। দ্রুতই উইকেটে সেট হয়ে এই জুটি দলের রানের সচল রাখেন। এতে বড় সংগ্রহের পথে হাটতে থাকে শ্রীলংকা। এ অবস্থায় ২৮তম ওভারের চতুর্থ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন পেরেরা। বাংলাদেশে অফ-স্পিনার মোসাদ্দেক হোসেনকে বাউন্ডারি মেরে ৮২তম বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তোলার পর নিজের ইনিংসকে বড় করতে পারেননি পেরেরা। সৌম্য সরকারের বলে মুস্তাফিজুর রহমানকে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১১১ রানে থামেন পেরেরা। তার ইনিংসে ১৭টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। তৃতীয় উইকেটে মেন্ডিসের সাথে ১০৬ বলে ১০০ রান দলকে উপহার দেন পেরেরা।
৩৩তম ওভারে চতুর্থ বলে দলীয় ২০৭ রানে আউট হন পেরেরা। পরের ওভারে বিদায় ঘটে মেন্ডিসেরও। বাংলাদেশের পেসার রুবেল হোসেনের বলে উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন মেন্ডিস। ৪টি চারে ৪৯ বলে ৪৩ রান করেন তিনি।
পেরেরার সেঞ্চুরির সাথে করুনারতেœ-মেন্ডিসের ছোট ছোট ইনিংসে বড় সংগ্রহের পথ পায় শ্রীলংকা। তাই উপরের সারির ব্যাটসম্যানদের দেখানো পথে হাটতে থাকেন দুই মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ও লাহিরু থিরিমান্নে। দু’জনে দলকে তিনশ’র রানের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে দলীয় ২৭২ রানে থিরিমান্নেকে বিদায় দিয়ে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন মুস্তাফিজ। ৩০ বলে ২৫ রান করেন থিরিমান্নে। পরের ওভারে হার্ড-হিটার থিসারা পেরেরা আউট করে শ্রীলংকার রানের লাগাম টেনে ধরার পথ তৈরি করেন শফিউল। ২ রান করেন পেরেরা।
কিন্তু ৬ বলের ব্যবধানে মুস্তাফিজ-শফিউলের জোড়া আঘাতের পরও শ্রীলংকার রানের লাগাম টেনে ধরতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। সাবেক অধিনায়ক ম্যাথুজের সাথে ধনঞ্জয়া ডি সিলভার ব্যাটিং শ্রীলংকাকে তিনশ রানের কোটা স্পর্শ করায়। দলীয় ৩০২ রানে আউট হন ম্যাথুজ। মুস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ৩টি চারে ৫২ বলে ৪৮ রান করেন ম্যাথুজ। ডি সিলভা-ম্যাথুজ সপ্তম উইকেটে ২৬ রান যোগ করেন লংকানদের স্কোর বোর্ডে। শেষ ওভারে ডি সিলভাকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান শফিউল। তারপরও শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩১৪ রানের বড় সংগ্রহ পায় শ্রীলংকা। বাংলাদেশের শফিউল ৬২ রানে ৩ উইকেট নেন। এছাড়া মুস্তাফিজ ২টি, মিরাজ-রুবেল-সৌম্য ১টি করে উইকেট নেন।
নিজের প্রথম অধিনায়কত্বের ম্যাচ, তাই রোমাঞ্চিত তামিম। তবে ৩১৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নামার সময় চিন্তার ভাঁজ তামিমের কপালে। কারন লক্ষ্যমাত্রা যে, অনেক বড়। এমন অবস্থায় বল হাতে শ্রীলংকার বোলিং ইনিংস শুরুর অপেক্ষায় বিদায়ী ম্যাচ খেলতে নামা ডান-হাতি পেসার লাসিথ মালিঙ্গা। মনের মধ্যে কষ্ট বাসা বেধে আছে মালিঙ্গার। আজকের পর আর যে, ৫০ ওভারের ম্যাচে দেখা যাবে না মালিঙ্গাকে। তাই তো শেষটা রাঙ্গাতে গোমরা মুখে মুখিয়ে ছিলেন তিনি।
প্রথম চার ডেলিভারিতে কোন রান নিতে পারেননি তামিম। তবে পঞ্চম ডেলিভারিতে তামিমকে চমকে দেন মালিঙ্গা। দুর্দান্ত এক ইনসুইং ইর্য়কারে তামিমকে বোল্ড করেন মালিঙ্গা। নিজের রোমাঞ্চের ম্যাচে শূন্য হাতে ফিরতে হয় বিশ্বকাপে ৮ ইনিংসে ২৩৫ রান করা তামিমকে।
শুন্য রানে অধিনায়ককে হারানোর পর দলকে খেলায় ফেরানোর পথ খুঁজেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার ও একমাত্র অনুশীলন ম্যাচে ৯১ রান করা মোহাম্মদ মিঠুন। মালিঙ্গার সাথে বোলিং ওপেন করা নুয়ান প্রদীপকে দেখেশুনেই খেলছিলেন সৌম্য-মিথুন। তাই দু’জনের রান তোলার গতিও বেশ ধীর। তাই ওভার প্রতি চারের কিছু বেশি রান রেটে ৭ ওভারে ৩০ রান পায় বাংলাদেশ।
অষ্টম ওভারের তৃতীয় বলে মিঠুনকে লেগ বিফোর ফাঁেদ ফেলেন শ্রীলংকার প্রদীপ। তাতে সাড়া দেন অন-ফিল্ড আম্পায়ার। কিন্তু নিজের আউট নিয়ে সন্দেহ জাগে মিঠুনের। তাই রিভিউ নিয়ে বসেন তিনি। কিন্তু কোন উপকার হয়নি। রিভিউতে আউট হন মিঠুন। ফলে একমাত্র রিভিউটি হারাতে হয় বাংলাদেশকে। ১টি চারে ২১ বলে ১০ রান করেন মিঠুন। মিঠুনকে হারিয়ে চাপ অনুভব করছিলেন আরেক ওপেনার সৌম্য। সেটি প্রকাশ পায় পরের ওভারে। মালিঙ্গার আরও একটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হন সৌম্য। বিশ্বকাপে ৮ ইনিংসে ১৬৬ রান করা সৌম্য আবারো নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হন। ২২ বলে ১টি চারে ১৫ রান করেন তিনি। তাই দলীয় ৩০ রানেই উপরের সারির প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে হারাতে হয় বাংলাদেশকে।
এ অবস্থায় চাপ মুক্ত হবার জন্য মুখিয়ে ছিলো বাংলাদেশ। কারন ক্রিজে তখন দুই কান্ডারি মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বহু ম্যাচে এমন পরিস্থিতিতে দুর্দান্তভাবে ঘুড়ে দাঁড়িয়েছেন তারা। দলকে ফিরিয়েছিলেন লড়াইয়ে। কিন্তু এবার আর হলো না। মাহমুদুল্লাহ উইকেট দিয়ে আসলে দলীয় ৩৯ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৩ রান করে শ্রীলংকার ডান-হাতি পেসার লাহিরু কুমারার শিকার হন বিশ্বকাপে ৬ ইনিংসে ২১৯ রান করা মাহমুদুল্লাহ। মূলত এখানেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ।
এ অবস্থায় কাউন্টার অ্যাটাকে যান ছয় নম্বরে ব্যাট হাতে নামা সাব্বির রহমান। প্রথম ১০ বল থেকে ৫ রান তুলতে পারলেও ১৫তম ওভারে শ্রীলংকার থিসারা পেরেরাকে তিনটি বাউন্ডারি মারেন সাব্বির। এতে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় তার। তাই পরবর্তীতে রান অবলীলায় রান তুলেছেন তিনি। ফলে ৪২ বলেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন বিশ্বকাপে ২ ইনিংসে ৩৬ রান করা সাব্বির।
সাব্বিরের হাফ-সেঞ্চুরির সময় ৪৪ বলে ৩২ রানে দাড়িয়ে মুশফিক। আর তখন শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে উঠে লড়াইয়ে ফেরার পথ দেখতে পায় বাংলাদেশ। ২৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩০ রান।
কিন্তু হাফ-সেঞ্চুরির নিজের ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি সাব্বির। শ্রীলংকার অফ-স্পিনার ধনঞ্জয়া ডি সিলভার শিকার হন তিনি। ৭টি চারে ৫৬ বলে ৬০ রান করেন সাব্বির। দলীয় ১৫০ রানে সাব্বিরের বিদায়ের পরও লোয়ার-অর্ডার নিয়ে লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকেন মুশফিক। কারণ ততক্ষণে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৬তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে উইকেটে সেট ব্যাটসম্যান তিনি।
কিন্তু মুশফিকের সাথে ভালোভাবে তাল মেলাতে পারেননি লোয়ার-অর্ডারে দুই ভরসা মোসাদ্দেক হোসেন ও মিরাজ। মোসাদ্দেক রান আউটের ফাঁেদ পড়ে ১২ রানে ও মিরাজ ২ রান করে ডি সিলভার দ্বিতীয় শিকার হন। তাই এ অবস্থায় ম্যাচ থেকে জয় তুলে নেয়ার আশা ছেড়ে দেন মুশফিক। তবে হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টায় ছিলেন তিনি। কিন্তু ৩৯তম ওভারের প্রথম বলে দলীয় ১৯৯ রানে শেষ হয় মুশফিকের ধৈর্য্যশীল ইনিংসটির। ৫টি চারে ৮৬ বলে ৬৭ রান করেন ইনফর্ম মুশফিক। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দ্বিতীয় রান সংগ্রাহক ছিলেন মুশফিক। ৮ ইনিংসে ১টি সেঞ্চুরি ও ২টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৩৬৭ রান করেছিলেন তিনি।
মুশফিকের বিদায়ের ১ বল পরই প্যাভিলিয়নে ফিরেন শফিউল। মুশফিকের পর তাকেও শিকার করেন প্রদীপ। তাই বাংলাদেশের শেষ উইকেট পতন হয়ে দাড়ায় সময়ের ব্যাপার। কিন্তু ব্যাট হাতে মারমুখী মেজাজ নিয়ে শ্রীলংকার অপেক্ষা বাড়িয়ে দেন। তাই ৪২তম ওভারে বল হাতে আক্রমনে আসেন বিদায়ী মালিঙ্গা। ওয়ানডে ক্রিকেটে শেষ ওভার করতে আসেন তিনি। নিজের চতুর্থ ডেলিভারিতেই মুস্তাফিজকে ১৮ রানে শিকার করে বাংলাদেশকে ২২৩ রানে গুটিয়ে দেন মালিঙ্গা। প্রথম স্পেলে ৫ ওভারে ২ মেডেনে ১২ রানে ২ উইকেট নেয়া মালিঙ্গা, ম্যাচ শেষে বোলিং ফিগার ছিলো ৯.৪-২-৩৮-৩। শুরুতে বাংলাদেশের বড় ক্ষতিটা করেছিলেন এই মালিঙ্গাই। তামিম-মিঠুনকে দ্রুত ফিরিয়ে বাংলাদেশকে অশনি সংকেতই দিয়েছিলেন তিনি। সেই সংকেত আচ করতে না পেরে ৪১ দশমিক ৪ ওভারে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। আর ওয়ানডে ক্রিকেটের বিদায়টা জয় দিয়েই শেষ করেন মালিঙ্গা। শ্রীলংকার আরেক পেসার প্রদীপ ৩টি, ডি সিলভা ২টি ও কুমারা ১টি উইকেট নেন।
আগামী ২৮ জুলাই একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে।
স্কোর কার্ড :
শ্রীলংকা ইনিংস :
ফার্নান্দো ক সৌম্য ব শফিউল ৭
করুনারতেœ ক মুস্তাফিজ ব মিরাজ ৩৬
কুশল পেরেরা ক মুস্তাফিজ ব সৌম্য ১১১
কুশল মেন্ডিস ক মুশফিক ব রুবেল ৪৩
ম্যাথুজ ক সাব্বির ব মুস্তাফিজুর ৪৮
থিরিমান্নে ক সৌম্য ব মুস্তাফিজ ২৫
থিসারা পেরেরা ক সৌম্য ব শফিউল ২
ডি সিলভা ক সাব্বির ব শফিউল ১৮
মালিঙ্গা অপরাজিত ৬
প্রদীপ অপরাজিত ০
অতিরিক্ত (লে বা-১, নো-১, ও-১৬) ১৮
মোট (৮ উইকেট, ৫০ ওভার) ৩১৪
উইকেট পতন : ১/১০ (ফার্নান্দো), ২/১০৭ (করুনারতেœ), ৩/২০৭ (কুশল), ৪/২১২ (মেন্ডিস), ৫/২৭২ (থিরিমান্নে), ৬/২৭৬ (থিসারা), ৭/৩০২ (ম্যাথুজ), ৮/৩০৯ (ডি সিলভা)।
বাংলাদেশ বোলিং :
শফিউল : ৯-০-৬২-৩ (ও-৫),
মিরাজ : ৯-০-৫৬-১,
রুবেল : ৯-০-৫৪-১ (ও-২),
মোসাদ্দেক : ৭-০-৪৫-০,
মুস্তাফিজ : ১০-০-৭৫-২ (ও-৪, নো-১),
সৌম্য : ৫-০-১৭-১,
মাহমুদুল্লাহ : ১-০-৪-০।
বাংলাদেশ ব্যাটিং :
তামিম বোল্ড ব মালিঙ্গা ০
সৌম্য বোল্ড ব মালিঙ্গা ১৫
মিঠুন এলবিডব্লু ব প্রদীপ ১০
মুশফিক ক মেন্ডিস ব প্রদীপ ৬৭
মাহমুদুল্লাহ ক অতি (ডি সিলভা) ব কুমারা ৩
সাব্বির ক ফার্নান্দো ব ডি সিলভা ৬০
মোসাদ্দেক রান আউট (মেন্ডিস) ১২
মিরাজ ক মেন্ডিস ব ডি সিলভা ২
শফিউল বোল্ড ব প্রদীপ ২
রুবেল অপরাজিত ৬
মুস্তাফিজ ক থিসারা ব মালিঙ্গা ১৮
অতিরিক্ত (লে বা-৪, ও-২৪) ২৮
মোট (অলআউট, ৪১.৪ ওভার) ২২৩
উইকেট পতন : ১/০ (তামিম), ২/৩০ (মিঠুন), ৩/৩০ (সৌম্য), ৪/৩৯ (মাহমুদুল্লাহ), ৫/১৫০ (সাব্বির), ৬/১৮২ (মোসাদ্দেক), ৭/১৮৭ (মিরাজ), ৮/১৯৯ (মুশফিক), ৯/২০০ (শফিউল), ১০/২২৩ (মুস্তাফিজ)।
শ্রীলংকা বোলিং :
মালিঙ্গা : ৯.৪-২-৩৮-৩ (ও-৮),
প্রদীপ : ৯-১-৫১-৩,
থিসারা : ৬-০-৩৬-০ (ও-১),
কুমারা : ৭-০-৪৫-১ (ও-৪),
ডি সিলভা : ১০-০-৪৯-২ (ও-২)।
ফল : শ্রীলংকা ৯১ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা :কুশল পেরেরা(শ্রীলংকা)।
সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল শ্রীলংকা।
বাসস/এএমটি/২৩৪০/স্বব