টি-২০ ফরম্যাটে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস অর্জন করছে : মুশফিক

77

ঢাকা, ১৯ মার্চ ২০১৮ (বাসস) : ভারতের কাছে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে হেরেছে বাংলাদেশ। শিরোপার কাছে গিয়েও তা স্পর্শ করতে না পারলেও নিজেদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে বাহ-বা কুড়িয়েছে টাইগাররা। সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের মতে ধীরে হলেও টি-২০ ফরম্যাটে আত্মবিশ্বাস অর্জন করছে বাংলাদেশ। গতকাল টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে আজ ঢাকায় ফিরে মুশফিক বলেন, ‘গেলো কয়েক বছর ধরে আমরা টেস্ট ও ওয়ানডেতে ভালো পারফরমেন্স করে আসছি এবং আমাদের দিনে আমরা যেকোন দলকে হারাতে পারি। তবে টি-২০ ফরম্যাটে আমরা ধীর গতিতে আত্মবিশ্বাস অর্জন করছি।’
গেলো জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে হারের পর শ্রীলংকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট-টি-২০তে হারের লজ্জ পায় বাংলাদেশ। এমন অবস্থায় শ্রীলংকার মাটিতে নিদাহাস ট্রফিতে খেলতে যায় টাইগাররা। ভারতের কাছে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও, শ্রীলংকাকে হারিয়ে দেয় টাইগাররা। লীগের দ্বিতীয় পর্বে আবারো ভারতের কাছে হার মানে মাহমুদুল্লাহ’র দল। তবে লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ঠিকই লংকানদের আবারো হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দুর্দান্ত ইনিংসের কল্যাণে টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ।
শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেও ভারতের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের ইনিংসের ১৮ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ বাংলাদেশের পক্ষেই ছিলো। কিন্তু রুবেল হোসেনর ১৯তম ওভারে ২২ রান ও শেষ ওভারে সৌম্য সরকারের কাছ থেকে ১৩ রান আদায় করে বাংলাদেশকে শিরোপা বঞ্চিত করেন উইকেটরক্ষক দিনেশ কার্তিক। ম্যাচের শেষ বলে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিলো ৫ রান। সেখানে ছক্কা মেরে ভারতকে শিরোপা এনে দেন কার্তিক।
শিরোপা হাতছাড়া হলেও দলের পারফরমেন্সে খুশি হয়েছেন বাংলাদেশের নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তাই তো ম্যাচ শেষে সতীর্থদের প্রশংসা করেছেন তিনি। তবে এখনো দলের অনেক কিছু শেখার বাকি আছে বলে মনে করেন বাংলাদেশের সাবেক দলপতি মুশফিক। তিনি বলেন, ‘এটি সত্যি যে, আমরা এখনো টি-২০ ফরম্যাটে ভালো দল হতে পারিনি। আমরা এখনো অনেক কিছু শিখছি এবং উন্নতি করার চেষ্টা করছি। তবে এমন কিছু বিষয় আছে যেখানে আমরা উন্নতি করতে পারি এবং আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট ও কোচিং স্টাফরা এসব বিষয় জানেন।’
নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশকে ফাইনালে তুলতে বড় অবদান রেখেছেন মুশফিক। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। ৫ ইনিংসে ২টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ১৯৯ রান করেছেন মুশফিকুর। লিগের প্রথম পর্বে শ্রীলংকার দেয়া ২১৫ রানের টার্গেট স্পর্শ করতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৩৫ বলে অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংস খেলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। ফলে রেকর্ড গড়ে বড় টার্গেট পূরণ করে জয় পায় বাংলাদেশ।
তবে সব কষ্ট ফাইনালে হারে শেষ হয়ে যায়। তারপরও এই আসরের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে দেবে বলে মনে করেন মুশফিকুর, ‘আমরা ফাইনাল খেলেছি। ফাইনাল খেলা আমাদের জন্য বড় অর্জনই ছিলো। তবে ফাইনাল হারে সকলে কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু আমরা অনুভব করছি, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে দেবে এবং সামনের সিরিজগুলোতে ভালো খেলতে সহায়ক হবে।’

image_printPrint