বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যার প্রধান আসামী নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত

265

বরগুনা, ২ জুলাই, ২০১৯ (বাসস) : শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন (নয়ন বন্ড) মঙ্গলবার ভোরে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এ সময় একটি পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি ও ৩ টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বরগুনা জেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে পুরাকাটা গ্রামের একটি নিরিবিলি (চায়না প্রকল্প) এলাকায় নয়ন বন্ড অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার ভোর সোয়া চারটার দিকে পুলিশের একটি টিম অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নয়ন বন্ড পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে পুলিশ ও পাল্টা গুলি চালায় এতে বন্দুকযুদ্ধে নয়ন নিহত হয়। নয়ন বন্ডের মরদেহ উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহানসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এর আগে সোমবার বিকেলে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার দুই অভিযুক্ত আসামী অলি ও তানভীর বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়্যাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। একই দিন এ হত্যাকান্ডে গ্রেফতার হওয়া নাজমুল হাসানকে দ্বিতীয়বারের মতো এবং সাগর ও সাইমুন নামের অপর দুজনের জন্য পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী তাদের প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ডই মঞ্জুর করেন।
অপরদিকে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর বিরুদ্ধে সোমবার ল্যাপটপ ছিনতাইচেষ্টা এবং শারীরিকভাবে জখম ও হুমকি দেওয়ার পৃথক আরেকটি মামলায় বরগুনার জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. নাহিদ হোসেন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বলে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. শাহ আলম গাজী জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রীর সামনে সন্ত্রাসী সাব্বির আহমেদ নয়ন (নয়ন বন্ড)ও রিফাত ফরাজী প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা আক্তার মিন্নি প্রাণপণ চেষ্টা করে ও তাদের থামাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ২৭ জুন হত্যা মামলা দায়ের করেন রিফাত শরীফের বাবা মো. আ. হালিম দুলাল শরীফ।
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন আরও জানিয়েছেন, পুলিশ এ পর্যন্ত ৮ জনকে এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে জিঙ্গাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

image_printPrint