৪৫টি দেশের মধ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ এগিয়ে : সরকারি দল

120

সংসদ ভবন, ২২ জুন, ২০১৯ (বাসস) : প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের উদ্বৃতি দিয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বেই এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ৪৫টি দেশের মধ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক েেথকে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে, যা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে ।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ বিকেল ৩টা ২৮ মিনিটে অধিবেশনের শুরুতে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা-উত্তর টেবিলে উপস্থাপন শেষে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
গত ১৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ,হ.ম মুস্তফা কামাল ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন।
২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনার ৪র্থ দিনে আজ স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সরকারি দলের আবুল হাসানাত আবদুল্যাহ, মজাহারুল হক প্রধান, ফরিদুল হক খান, আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী, এম এ মতিন, হাফেজ রুহুল আমীন মাদানী, হাসান ইমাম খান, আ ক ম সারোয়ার জাহান, মৃনাল কান্তি দাস, আহসানুল ইসলাম টিটো, মঞ্জুর হোসেন, সুবর্ণা মোস্তফা, নার্গিস রহমান, তামান্না নুসরাত বুবলী, রুমানা আলী ও জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, বিএনপির সময়ে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা দেয়া হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই অবস্থা থেকে দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘে সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের যে অঙ্গীকার করেছে তা বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। কারণ টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তা। এজন্য জননিরাপত্তা বিভাগকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। পুলিশ বিভাগে ৮০ হাজার নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। দেশে জননিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চত করতে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, ট্যুরিস্ট পুলিশ, শিল্প পুলিশের মতো বিভিন্ন ইউনিট ও বিভাগ খোলা হয়েছে। এর ফলে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ একটি অনন্য অবস্থান তৈরি করেছে। সারাবিশ্বে যখন জঙ্গি উত্থান হচ্ছিল তখন প্রধানমন্ত্রী এদেশে জঙ্গি দমনে দেশবাসী তথা বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে সহযোগিতা চান। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশবাসি জঙ্গি দমনে এগিয়ে আসে এবং আমরা জঙ্গি দমনে সমর্থ হই।
মন্ত্রী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড, র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, ইতোমধ্যে ৬শ’র বেশি চরমপন্থী আত্মসমর্পন করেছে। এরা এখন স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন দেখছে। এছাড়া পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন সেক্টরে ই-পাসপোর্ট ও ই-গেইট চালু হচ্ছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে এটি চালু হবে বলে তিনি আশা করেন।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নদী মাতৃক বাংলাদেশের আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সামুদ্রিক অর্থনীতি দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। বিএসসিতে নতুন নতুন জাহাজ যুক্ত হচ্ছে। বেসরকারি সেক্টরের অনেক ব্যবসায়ীরা এখানে বিনিয়োগ করছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, মংলা পোর্টের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, নতুন পায়রা সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছে, মাতারবাড়িতে ভবিষ্যতে গভীর সমুদ্রবন্দর হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ বাজেটকে উন্নত- সমৃদ্ধ দেশ গড়ার দলিল উল্লেখ করে বলেন, এ বাজেটের মাধ্যমে দেশে অর্থনীতি আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে। তিনি এ বাজেট যথাযথভাবে বাস্তাবায়ন করার সক্ষমতা বর্তমান সরকারের রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ক্রমাগত ১০ বছর যাবত উচ্চ বাজেট প্রদান এবং তা বাস্তবায়ন করে তার প্রমাণ দিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত বৈদেশিক কর্মসংস্থান অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছর এপ্রিল পর্যন্ত ২লাখ ২৬ হাজার ৭১০জন বাংলদেশী কর্মী বিদেশে প্রেরণ করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশে কর্মরত কর্মীদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। এছাড়া সরকার প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইমরান আহমেদ বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার এই খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে ‘প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতি-২০১৬’ ও ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান অভিবাসী বিধিমালা-২০১৭’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ১ কোটি ২৪ লাখ কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছে। গত অর্থবছরে এসব প্রবাসী কর্মীরা ১৫ কোটি ৫৪ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। বাজেটে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের প্রনোদনা দেয়ার যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি অনেক বৃদ্ধি পাবে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, সরকার তার দশ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো বড় আকারের বাজেট প্রদান করেছে। আর এবারের বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অংকের বাজেট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করেছে বলেই এতো বড় অংকের বাজেট প্রদান সম্ভব হয়েছে।
এ বাজেট অবশ্যই বাস্তবায়নযোগ্য উল্লেখ করে বলেন, সরকার গত দশ বছর ধরে কারণ সরকার সাফল্যের বড় অংকের বাজেট সফলভাবে বাস্তায়নে সাফল্য দেখিয়েছে। আর এর মাধ্যমে দেশ আজ নিন্ম মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। আগামীতে নির্ধারিত সময়েই দেশ মধ্যম ও উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে ইন্নীত হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের অন্য সদস্যরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সূচিত উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত সময়ে উন্নত-সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে প্রস্তাবিত বাজেট দেয়া হয়েছে। বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, গ্রাম-শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সর্বোপরি দেশের সব মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে সব খাতে সঠিকভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
তারা বলেন, বর্তমান সরকার বিগত ১০ বছরে দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। উন্নয়নে বিশ্বে এখন অনন্য বিস্ময় হিসাবে আর্বিভূত হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশ এমডিজি বাস্তবায়ন করে এক অনন্য নজীর স্থাপন করেছে।
তারা বলেন, আর এ জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক অতি সম্প্রতি বলেছে এশিয়া প্যাসিফিক এলাকার ৪৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে, যা আগামী দিনেও এটা অব্যাহত থাকবে।
তারা বলেন, খেলাপী ঋণের সংস্কৃতি চালু হয়েছে বিএনপির আমলে। ২০০৩ সালে খেলাপী ঋণ ছিল ২৮ শতাংশ। বর্তমানে এর পরিমান ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। বর্তমান সরকার খেলাপী ঋণ আদায়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আশা করা যায় খেলাপী ঋণের পরিমান কমে আসবে।

image_printPrint