সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচনা দিক-উন্মোচনকারী : আনিসুজ্জামান

228

ঢাকা, ২০ জুন ২০১৯ (বাসস) : বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচনার পরিমাণ সংখ্যায় বেশি না হলেও প্রত্যেকটিই গুরুত্বপূর্ণ এবং দিক-উন্মোচনকারী। উপন্যাস, গল্প, নাটক- সবক্ষেত্রেই তিনি বিশিষ্টতার দাবিদার। ‘
তিনি বলেন, ওয়ালীউল্লাহর লেখা ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনী’র মতো গল্প সমগ্র বাংলা সাহিত্যেই বিরল। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ যত বড় মানের সাহিত্যিক সে অনুযায়ী প্রাপ্য স্বীকৃতি তিনি এখনও পাননি। তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিশ্চয়ই তাঁকে তাঁর যথাযোগ্য মর্যাদা দেবে।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বাংলা একাডেমির উদ্যোগে বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথা সাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ স্বরণে আয়োজিত স্বরণসভায় সভাপতি হিসেবে এই বক্তব্য রাখেন। গতকাল সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় ‘ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ : রাষ্ট্র ও রাজনীতির অন্তঃস্বর ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীম। স্বাগত ভাষণ দেন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
স্বাগত ভাষণে আনোয়ার হোসেন বলেন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তাঁর সাহিত্যকর্মে ধর্মের নামে ভ-ামির বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন যা আজকের দিনেও সমান প্রাসঙ্গিক।
ইমতিয়ার শামীম বলেন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ইতিহাসের এক ক্রান্তিকালে সাহিত্যসাধনা শুরু করেন। শিক্ষাজীবনে বামপন্থী চিন্তার সংস্রব সমকালীন সমাজে তাঁর স্বতন্ত্র মানস-ভূগোল নির্মাণে ভূমিকা রাখে। তিনি নিজে অগ্রসর হয়েও তাঁর সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য নিজের রচনাকে সচেতনভাবে পিছিয়ে রাখতেও দ্বিধাহীন ছিলেন। লেখক হিসেবে গণমানুষের সমানুপাতিক অগ্রযাত্রায় বিশ্বাসী ছিলেন তিনি।
তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকতা, দেশভাগ ইত্যাদির নেতিমূলক অভিঘাত তাঁর সাহিত্যে উঠে এসেছে অনন্য মাত্রায়। একই সঙ্গে তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার বিষয়টিও লালসালু থেকে কাঁদো নদী কাঁদো উপন্যাসের পরম্পরায় বিস্তৃত। কাঁদো নদী কাঁদো-তে তিনি নদীর রূপকে ভূখন্ডের অব্যক্ত কান্নাকে ভাষারূপ দিয়েছেন।

image_printPrint