বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে আরো ৩ কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে : সরকারি দল

148

সংসদ ভবন, ১৯ জুন, ২০১৯ (বাসস) : প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বাজেট কর্মসংস্থানমুখী উল্লেখ করে বলেছেন, প্রস্তাবিত এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে অতিরিক্ত আরো ৩ কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ বিকেল ৩টা ০৬ মিনিটে অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা-উত্তর টেবিলে উপস্থাপন শেষে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। অধিবেশনের এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া সভাপতিত্ব করেন।
গত ১৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ,হ.ম মুস্তফা কামাল ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন।
২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ওপর আলোচনার ২য় দিন আজ পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, সরকারি দলের মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরোত্তম, মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূইয়া, একে.এম ফজলুল হক, কাজী কেরমত আলী, আবু রেজা মো. নেজামুদ্দিন নদভী, কাজী মো. শাহনেওয়াজ, নারায়ন চন্দ্র চন্দ, সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, শামসুল আলম দুদু, রুশেমা বেগম, বেগম লুৎফুন্নেসা, সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, সেলিমা আহমাদ, বিএনপির রুমিন ফারহানা, জাহিদুর রহমান, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, মোস্তফা লুৎফুল্লাহ ও স্বতন্ত্র সদস্য রেজাউল করিম বাবলু অংশ নেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বর্তমান সরকার পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র,পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্ণফুলি নদীর তলদেশে ট্যানেল নির্মাণসহ দেশের উন্নয়নে অনেক বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যেগুলো বাস্তবায়নে জাতিকে উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতু দক্ষিণ বাংলাকে যুক্ত করবে, পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে।
মন্ত্রী বলেন, একটি কথা বলা হয়, বাজেট অনেক বিশাল। আমাদের বর্তমান অর্থনীতির যে সাইজ, গত ১১ বছরে যেভাবে পরিবর্তন হয়েছে, তা আনুপাতিক হারে হিসাব করলে ৫শ’ কোটি কেন, ২ হাজার কোটি টাকা বাজেট দেয়া সম্ভব। আমাদের অমীত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আরো বেশি মাত্রায় বাজেট দেয়া উচিত।
তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার ও ডিজিটাল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি বিভাগে আইএমইডি’র অফিস খোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রকল্প কাজ তরাান্বিত করার লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেট পাস হওয়ার সাথে সাথে সকল প্রকল্পের বরাদ্দ মন্ত্রণালয়ে না গিয়ে, সরাসরি প্রকল্পের একাউন্টে চলে যাবে।
মন্ত্রী বলেন, সঠিক সময়ে নিখুঁত পরিসংখ্যান দেয়ার লক্ষ্যে এই বিভাগকে একটি বিশ্বমানের পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বাজেটকে সময়োপযোগী ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ায় আরেক ধাপ এগিয়ে নেয়ার বাস্তব পরিকল্পনা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে গত ১০ বছরে দেশের প্রতিটি খাতে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। দারিদ্র বিমোচন, প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিক ভাবে বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো উন্নয়ন, শহর ও গ্রামীণ জনপদের অর্থনৈতিক অগ্রগতিসহ সব ক্ষেত্রেই যে উন্নয়ন হয়েছে তা অতীতে কোন সময় হয়নি।
মন্ত্রী তার মন্ত্রণালয় রেলওয়ে খাতের ব্যপক উন্নয়নের কথাও বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি-জামায়াত আমলে দেশের রেল ব্যবস্থাকে প্রায় ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার তার প্রথম মেয়াদ থেকে দেশের জনগণের সুলভ ও নির্বিঘœ যাতায়াত নিশ্চিত করতে রেল খাতের উন্নয়নে ব্যপক পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে ৮১টি প্রকল্প নেয়া হয়। ইতোমধ্যে ৬৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যে কোন সময়ের তুলনায় রেল ব্যবস্থাকে উন্নয়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, এ সময়ে রেলে নতুন ইঞ্জিন, বগি, মালবাহি ট্রেন সংগ্রহ এবং নতুন রেল সেতু, নতুন লাইন স্থাপন ও রেল স্টেশনগুলোর আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
সুজন বলেন, আগামী দিনে সরকার জনগণের জন্য সহজ যাতায়াত আরো সহজ করতে ব্যপক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে ২০১৬-’৪৫ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য রেলের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় ঢাকা শহরের চারপাশে রেল লাইন নির্মাণ ছাড়া দেশের সব জেলাকে রেলের নেটওয়ার্কে নিয়ে আসা, রাজধানী থেকে সব বিভাগীয় শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ জেলায় দ্রুতগামি রেল চালুসহ অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, ব্যাংক খাতে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে হলে এই খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। খেলাপী ঋণ কমিয়ে আনতে হবে এবং পুঁজিবাজারে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো, কালো টাকা বৈধ করার ব্যবস্থা না রাখাসহ কৃষকদের সমবায় সমিতি তৈরি করে কৃষি পণ্য ক্রয়ের ব্যবস্থা করা, কৃষি উৎপাদন সুরক্ষায় ভূমি সংস্কার ও গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব করেন।
বিএনপি নির্বাচন ভন্ডুলের শত চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচিত সংসদকে অবৈধ বলছে। বিএনপি ও গণফোরাম জলঘোলা করার চেষ্টা করছে।
জাসদের সদস্য শিরিন আক্তার বলেন, শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দের প্রস্তাব করেন। তিনি বাজেটের মোট বরাদ্দের ৩০ শতাংশ নারী উন্নয়নে ব্যয় হওয়া উচিত।

image_printPrint