প্রস্তাবিত বাজেট পুঁজিবাজার উন্নয়নে সহায়ক হবে : চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা

341

চট্টগ্রাম, ১৩ জুন, ২০১৯ (বাসস) : দেশের চলমান অগ্রযাত্রায় ২০১৯-২০ সালের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার সর্বোচ্চ বাজেট ‘পুঁজি বাজার উন্নয়নে সহায়ক হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা।
আজ জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট প্রস্তাব উত্থাপনের পর চট্টগ্রামের ব্যবসায়ি নেতারা এই প্রতিক্রিয়া জানান।
দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র পরিচালক মন্ডলীর পক্ষ থেকে সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ডিভিডেন্ড হতে আয়ের করমুক্ত সীমা ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা, স্টক ডিভিডেন্ডের পরিবর্তে ক্যাশ ডিভিডেন্ডকে উৎসাহিত করার জন্য স্টক ডিভিডেন্ডের উপর ১৫ভাগ কর প্রদান পুঁজি বাজার উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-ঢাকা দ্রুতগতির ট্রেন ও বে-টার্মিনাল নির্মাণ পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এসএমই খাতের উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব আহরণের আওতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে প্রস্তাবিত বাজেট।
চেম্বার সহ-সভাপতি বলেন, ৮ দশমিক ২ ভাগ জিডিপি অর্জন করা গেলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। প্রস্তাবিত বাজেটের কারণে বাজারে বেশীরভাগ দ্রব্যমূল্যের কোন পরিবর্তন হবার সম্ভাবনা নেই। সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অব্যাহত সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি কিছু নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সরকার, সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে ও দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।
সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিএমসিসিআই) সভাপতি খলিলুর রহমান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। ৪৯ বছর পর বর্তমানে জাতি পেয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট। এতেই অনুমেয় হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
প্রস্তাবিত বাজেট নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেছেন চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এর প্রেসিডেন্ট মনোয়ারা হাকিম আলী।
বাজেট প্রস্তাব পেশের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, শিশুদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। যোগাযোগ খাতের সংস্কার ও উন্নয়নের ফলে দেশের সামগ্রীক অর্থনীতি বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, অগ্রীম কর প্রদানের সীমা ৪ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৬ লাখ টাকা করা এবং এসইমই খাতে টার্নওভার ৩৬ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা উন্নীত করা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সম্মৃদ্ধ করবে। তৈরী পোশাক শিল্পের করের হার অব্যহত রাখা এবং হস্তশিল্প রপ্তানিতে ৫ বছর পর্যন্ত করমুক্ত রাখার প্রস্তাব উভয় শিল্পের জন্য ইতিবাচক।