জয়পুরহাটে বোরো ধান কাটা-মাড়াই উৎসব চলছে

319

জয়পুরহাট, ১৮ মে, ২০১৯ (বাসস) : জেলার পাঁচ উপজেলার সর্বত্র এখন চলছে বোরো ধান কাটা-মাড়াই উৎসব। কৃষি উন্নয়নে বর্তমান সরকার গৃহিত বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়নের ফলে ধানের উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার কৃষকের মুখে খুশির ঝিলিক দেখা যাচ্ছে।
জেলায় মাঠের পর মাঠ জুড়ে এখন সোনালী ধান দেখা যাচ্ছে। আজ শনিবার পর্যন্ত শতকরা ২৫ ভাগ বোরো ধান কাটা-মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সার, বীজ, কীটনাশক, পানি সেচ ও শ্রমিকসহ প্রতিবিঘা জমিতে গড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। ধানের ফলন হয়েছে জাত ভেদে বিঘা প্রতি ২৮ থেকে ৩৩ মন। প্রতি মণ ধান উৎপাদনে সার, কীটনাশক, লেবার ও পানি সেচ সহ খরচ পড়েছে সাড়ে ৮ শ টাকার মতো।
জেলার ধানের বাজার হিসাবে খ্যাত পুরানাপৈল, জামালগঞ্জ ও বটতলী বাজার সহ বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে ধান বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে সাড়ে ৫ শ’ থেকে ৬ শ’ টাকা মণ (৪০ কেজি)। আভ্যন্তরীন খাদ্য মজুদের জন্য সরকারিভাবে এবার ধানের বদলে চাল সংগ্রহ করা হবে। ইতোমধ্যে মিল মালিকদের সঙ্গে ১৮ হাজার ৪৪ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের চুক্তি সম্পাদন করেছে স্থানীয় খাদ্য বিভাগ।
জেলায় চাষ হওয়া উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের বোরো ধানের মধ্যে রয়েছে ব্রি-ধান-১৬, ২৮, ২৯, ৫০, ৫৮, ৬২, ৬৩ এবং ৬৪। এ ছাড়াও রয়েছে জিরাশাইল, কাজল লতা ও মিনিকেট ধান।
হাইব্রিড জাতের মধ্যে রয়েছে এস এল-৮, তেজ, তেজ গোল্ড, হিরা-২, ৩, ৪, ৫, এসিআই-১, ২, ৩, ৪ ও ৫। এ ছাড়াও রয়েছে মানিক রতন, বিজলী, স্পাহানী, আলোড়ন, জাগড়ন, তিনপাতা সুপার, সুফলা, দুর্বার, সাথী। জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুধেন্দ্রনাথ রায় বাসস’কে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় ৬৮ হাজার ৫ শ’ ৭১ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ৭০ হাজার একশ’ ৫০ হেক্টর জমিতে। এতে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ মে.টন।’
তিনি জানান, গত মৌসুমে জেলায় ৭২ হাজার একশ’ ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছিল। চাল উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩শ’ ৭৮ মে. টন, যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য স্থানে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

image_printPrint