ব্রাজিলে শিক্ষাখাতে ভর্তুকি হ্রাসের প্রতিবাদে ছাত্র-শিক্ষকের বিক্ষোভ

59

রিও ডি জানেরো, ১৬ মে, ২০১৯ (বাসস ডেস্ক) : ব্রাজিলে ‘শিক্ষাকে রক্ষা করতে’ বুধবার হাজার হাজার ছাত্র ও শিক্ষক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে। প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারো সরকার ঘোষিত বাজেটে শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি হ্রাসের প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নামে।
গত ১ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণ করার পর কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এটাই প্রথম দেশব্যাপী বড় ধরনের বিক্ষোভ।
ভর্তুকি হ্রাসের প্রতিবাদে ব্রাজিলের ২৭টি অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলোর ক্লাশ বর্জন করেছে ছাত্র ও শিক্ষকরা।
বিক্ষোভকারীরা সাও পাওলো, রিও ডি জানেরো ও বেলো হোরিজোন্টের মতো ব্রাজিলের প্রধান শহরগুলোর রাজপথে নেমে আসে। দিন বাড়তে থাকলে বিক্ষোভ মিছিলগুলোও বড় হতে থাকে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
বাজেটে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাষ্ট্র প্রদত্ত ভর্তুকি ৩০ শতাংশ হ্রাস করা হয়।
বোলসোনারো বিক্ষোভকারীদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী বোকার মতো অল্প কয়েকজন অভিজ্ঞ ও চতুর লোক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন।’
বামপন্থী চরমপন্থীরাই এই আন্দোলনে ইন্ধন যোগাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
টেক্সাস থেকে তিনি বলেন, পূর্বসূরীদের কাছ থেকে তিনি এমন একটি ব্রাজিল পেয়েছেন যেটা অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
তিনি বর্তমানে ইউএস-ব্রাজিল চেম্বার অব কমার্স এর একটি পুরস্কার গ্রহণ করার জন্য টেক্সাসে অবস্থান করছেন।
তিনি জানান, বাজেটে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি কর্তন ঘোষণার চেয়ে কম করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় প্রায় ১৫ হাজার বিক্ষোভকারী মিছিল করেছে। উত্তরাঞ্চলীয় নগরী বেলেমে ২০ হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নামে।
আয়োজকরা বলেন, ৭০ হাজার লোক বামপন্থীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সালভাদোরে বিক্ষোভ মিছিল করে।
এ সময় বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় পোর্তো আরেগরে শহরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। রিওতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিক্ষোভকারীরা একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সাও পাওলোতে বোলসোনারোর সমালোচনার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে ৩৮ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী মারিয়ানা মোউরা বলেন, ‘আমার মাস্টার্স ডিগ্রী রয়েছে। এছাড়াও জ্বালানি বিষয় পোস্ট ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেছি। যদি এই ঘটনায় কেউ বোকা হয়, তবে সে আমি নই।’
এই গবেষক আরো বলেন, ‘বিজ্ঞান ছাড়া চিকিৎসা বা অন্য কোন কাজ করা সম্ভব নয়। আমরা ব্রাজিলের অব্যাহত সৃজনশীল জ্ঞানের জন্য লড়াই করছি।
ব্রাসিলিয়ায় বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী লেখক আলেক্সান্দ্রিয়া রোসোই বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সরকার শিক্ষাকে প্রাধান্য দিচ্ছে না। এজন্যই আমরা আজ শিক্ষাখাতে সরকারের বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য লড়াই করছি।’
আয়োজকদের ধারণা ব্রাজিলের বাণিজ্যিক রাজধানী ও বৃহত্তম নগরী সাও পাওলোতে বিক্ষোভে ১ লাখ ৫০ হাজার লোক অংশ নেয়।

image_printPrint