রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে নিরাপত্তা পরিষদকে বিকল্প খোঁজার আহ্বান

45
image_printPrint

ঢাকা, ১৩ মার্চ, ২০১৮ (বাসস) : গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ে জাতিসঙঘের বিশেষ উপদেষ্টা আদামা দিয়েং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আজ এখানে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘বিশ্বের দেখানো দরকার যে তারা রোহিঙ্গাদের ওপর যে ধরনের বর্বরোচিত আচরণ করা হয়েছে তা সহ্য করতে তারা প্রস্তুত নয়। কেননা, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, জীবিত দগ্ধ ও অপদস্থ করা হয়েছে।
আদামা দিয়েং এক সপ্তাহের সফরে বাংলাদেশে এসে কক্সবাজারে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করার পর এ আহ্বান জানালেন।
আদামা দিয়েং কক্সবাজারে বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং সেখানে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছ থেকে তাদের ওপর ঘটা লোমহর্ষক অত্যাচারের বিবরণ শোনেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ, সুশীল সমাজ, ও কূটনীতিকরেদর সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে আমি যা দেখলাম, তা এক মানবিক বিপর্যয়। আর এতে মিয়ানমারের দায় সুস্পষ্ট। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এর দায় এড়াতে পারে না।’
তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বালিতে মাথা গুঁজে থাকার কারণে রোহিঙ্গাদের জীবন, মর্যাদা ও বাড়ি-ঘর হারিয়ে মূল্য দিতে হয়েছে। এ সমস্যার প্রথমত ও প্রধানত মিয়ানমারের হাতে। তাদের উচিত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং তাদের অন্য মিয়ানমার নাগরিকদের মতো একই অধিকার দেয়া।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব হলো রোহিঙ্গাদের আরো নৃশংসতার ঝুঁকি থেকে বাঁচানো।
দিয়েং বলেন, সমস্যার মূল কারণ নিরসন করতে হবে। সংঘটিত অপরাধের জবাবদিহি করতে হবে, রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে এবং তাদের নাগরিকত্বের বিষয়টি যথাযথভাবে ও সুনির্দিষ্টভাবে সমাধান করতে হবে।
রোহিঙ্গাদের তাদের চ্ছিার বিরুদ্ধে ফেরত পাঠানো উচিত হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি যা শুনেছি ও দেখেছি তা থেকে স্পষ্ট যে অধিকাংশ রোহিঙ্গাই দেশে ফিরে যেতে চায়, তবে তা নিরাপদে, মর্যাদার সাথে এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিয়ে।