প্রিমিয়ার লিগ : সুপার সিক্সে প্রথম জয় দেখলো মোহামেডান, সহজে জিতলো প্রাইম দোলেশ্বর, শিরোপা জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখলো আবাহনী

47

ঢাকা, ২১ এপ্রিল ২০১৯ (বাসস) :
সুপার সিক্সে প্রথম জয় দেখলো মোহামেডান
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সুপার সিক্সে টানা তিন ম্যাচ হারের পর প্রথম জয়ের দেখা পেল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। আজ সুপার সিক্সে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে মোহামেডান ৭ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে। এই ১৫ খেলায় ৭ জয় ও ৮ হারে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে সুপার সিক্স টেবিলের ষষ্ঠ ও শেষ দল এখন মোহামেডান। সমানসংখ্যক ম্যাচে ৮ জয় ৭ হারে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে থাকলো প্রাইম ব্যাংক।
আজ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং করতে নামে মোহামেডান। ব্যাট হাতে নেমে মোহামেডান বোলারদের তোপের মুখে পড়ে প্রাইম ব্যাংক। ৪৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। মিডল-অর্ডারে অলক কাপালি ও নাহিদুল ইসলাম শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে উঠে দলের স্কোর শতরানের কোটা পার করেন। কিন্তু দু’জনের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। কাপালি ৫৫ বলে ৪৩ ও নাহিদুল ৫৭ বলে ২৬ রান করেন। তাদের বিদায়ে দ্রুত গুটিয়ে যাবার শংকায় পড়েছিলো প্রাইম ব্যাংক। কিন্তু দলের শেষ তিন ব্যাটসম্যান সেটি হতে দেননি।
শেষ তিন ব্যাটসম্যান মনির হোসেন-আব্দুর রাজ্জাক ২২ রান করে ও আল-আমিন হোসেন ১৪ রান করে প্রাইম ব্যাংককে সম্মানজনক স্কোর এনে দেন। ৪২ দশমিক ২ ওভারে ১৭৪ রানে অলআউট হয় প্রাইম ব্যাংক। মোহামেডানের স্পিনার সাকলাইন সজীব ৪০ রানে ৪ ও সোহাগ গাজী ৩৮ রানে ৩ উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ১৭৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মারমুখী মেজাজে শুরু করেন মোহামেডানের দুই ওপেনার লিটন দাস ও আব্দুল মাজিদ। ৫ ওভারেই ৪২ রান যোগ করেন তারা। ৭টি চারে ২০ বলে ৩২ রান করে লিটন থামলে ইরফান শুক্কুরকে নিয়ে জুটি বাঁধেন মাজিদ। ১১ রানের বেশি করতে পারেননি শুক্কুর। তাই দলীয় ৭৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় মোহামেডান।
তবে তৃতীয় উইকেটে ৪৬ রানের জুটি গড়ে মোহামেডানের জয়ের পথ সহজ করেন মাজিদ ও রকিবুল হাসান। মাজিদ ৭১ বলে ৫৪ রান করে থামেন। তার ইনিংসেও ৭টি চার ছিলো। এরপর অবিচ্ছিন্ন ৫৬ রানের জুটি গড়ে মোহামেডানের জয় নিশ্চিত করেন রকিবুল, তুষার ইমরান। ৭টি চারে ৬৮ বলে অপরাজিত ৫২ রান করেন রকিবুল। ২২ রানে অপরাজিত ছিলেন তুষার। ম্যাচ সেরা হয়েছেন মোহামেডানের সাকলাইন।

সাইফের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে সহজে জিতলো প্রাইম দোলেশ্বর
ওপেনার সাইফ হাসানের দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে মহজ জয় পেল প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। ১১৬ বলে অপরাজিত ১৪৮ রানের অসাধারণ এক ইনিংস উপহার দেন সাইফ। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ সুপার সিক্সে আজ নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে প্রাইম দোলেশ্বর ৭ উইকেটে হারিয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে। মারমুখী মেজাজে ১১৬ বলে নিজের নান্দনিক ইনিংসটি সাজান সাইফ। এই জয়ে ১৫ খেলায় ৯ জয় ও ৬ হারে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে রেটে পিছিয়ে থেকে সুপার সিক্স টেবিলের চতুর্থস্থানে প্রাইম দোলেশ্বর। সমানসংখ্যক ম্যাচে ৯ জয় ৬ হারে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে এগিয়ে থেকে টেবিলের তৃতীয় স্থানে থাকলো শেখ জামাল।
সাভারের বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় প্রাইম দোলেশ্বর। ব্যাট হাতে নেমে শেখ জামালের উপরের সারির প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান ছোট ছোট ইনিংস খেলে বিদায় নেন। ইমতিয়াজ হোসেন ৩৩, ইলিয়াস সানি ২, রাকিন আহমেদ ৩৮, নাসির হোসেন ২৩ ও অধিনায়ক নুরুল হাসান ৩৬ রান করেন।
তবে ছয় নম্বরে নেমে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়েছেন তানবীর হায়দার। ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৩ বলে ৬৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন তানবীর। তার ব্যাটিং দৃঢ়তার সাথে শেষ দিকে তাইজুল ইসলামের ২২ রানে ভর করে তিন বল বাকি থাকতে ২৪৩ রানে অলআউট হয় শেখ জামাল। প্রাইম দোলেশ্বরের ফরহাদ রেজা ও তাইবুর রহমান ৩টি করে উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ২৪৪ রানের লক্ষ্যে শুরুতেই বিপদে পড়ে প্রাইম দোলেশ্বর। ৩০ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারায় তারা। এরপর ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার চেষ্টা করেন সাইফ হাসান ও ফরহাদ হোসেন। সর্তকতার সাথে খেলে উইকেটে সেট হয়ে ১৮৮ রানের বড় জুটি গড়েন তারা। এরমধ্যে ৭৮ রান অবদান রেখে থামেন ফরহাদ।
তবে সেঞ্চুরি তুলে দলকে জয়ের লক্ষ্যে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন সাইফ। শেষ পর্যন্ত দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন তিনি। ১০টি চার ও ১১টি ছক্কায় ১১৬ বলে অপরাজিত ১৪৮ রান করেন সাইফ। তার সাথে ৫ রানে অপরাজিত থেকে দলের নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন মার্শাল আইয়ুব। ম্যাচ সেরা হয়েছেন সাইফ।

সৌম্যর সেঞ্চুরিতে রূপগঞ্জকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখলো আবাহনী
ওপেনার সৌম্য সরকারের সেঞ্চুরিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখলো আবাহনী লিমিটেড। আজ সুপার সিক্সে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে আবাহনী ১০২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে। এ ম্যাচ হারলেও শিরোপা জয়ের দৌঁড়ে টিকে আছে রূপগঞ্জ। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে সুপার সিক্সের শেষ ম্যাচের ফলাফলের উপর।
সুপার সিক্সের শেষ রাউন্ডের আগে ১৫ খেলা শেষে ২৪ করে পয়েন্ট আবাহনী ও রূপগঞ্জের। ১৮ করে পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা দৌঁড়ে নেই শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও প্রাইম দোলেশ্বর স্পোটিং ক্লাব। তাই শেষ রাউন্ডে শিরোপার জন্য লড়াই এখন আবাহনী ও রূপগঞ্জের মধ্যে।
সমীকরণ অনুযায়ী শেষ রাউন্ডে নিজ নিজ ম্যাচে জিতলে আবারো পয়েন্ট সমান হবে আবাহনী ও রূপগঞ্জের। সেক্ষেত্রে রান রেটের হিসেব বিবেচনায় আসবে শিরোপাধারীকে নির্ধারন করতে। রান রেটে অনেক বেশিই এগিয়ে আবাহনী। বর্তমানে আবাহনীর রান রেট ০.৯০৫। রূপগঞ্জের ০.৪২৫। আর যদি এক দল হারে, অন্য দল জিতে তবে জয়ী দল শিরোপা জিতে নিবে। আবার যদি দু’দলই শেষ রাউন্ডে হেরে যায়, সেক্ষেত্রে রান রেটে এগিয়ে থেকে আবাহনীই চ্যাম্পিয়ন হবে। আগামী ২৩ এপ্রিল শেখ জামাল ধানমন্ডির বিপক্ষে আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে রূপগঞ্জ শেষ রাউন্ডের ম্যাচ খেলবে।
সাভারের বিকেএসপি’র তিন নম্বর মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে আবাহনী। প্রথমে ব্যাট করার সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগান দুই ওপেনার জহিরুল ইসলাম ও সৌম্য। মারমুখী মেজাজে ব্যাটিং করে ২৪ ওভারেই ১৬৯ রান তুলে ফেলেন তারা। এরমধ্যে ৭৭ বলে ১০৬ রানে অপরাজিত ছিলেন সৌম্য। ৫৭ রান ছিলো জহিরুলের নামের পাশে।
তবে ২৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান সৌম্য-জহিরুল। রূপগঞ্জের বাঁ-হাতি স্পিনার নাবিল সামাদ আবাহনীর ১৬৯ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গেন। নাবিল বিদায় দেন সৌম্যকে। ১৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭৯ বলে ১০৬ রান করে ফিরেন সৌম্য।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে আবাহনীর ইনিংস বড় করছিলেন সৌম্য। কিন্তু বেশি দূর এই জুটি যেতে পারেননি। ২৪ রান করে ফিরে যান শান্ত। কিছুক্ষণ বাদে থেমে যান জহিরুলও। ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮৩ বলে ৭৫ রান করেন জহিরুল।
২২১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৭৭ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারে আবাহনী। ভারতের ওয়াসিম জাফর ৩৯ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ৪৬ ও সাব্বির রহমান ৪টি চারে ২৪ বলে ৩৩ রান করেন। তবে আবাহনীকে রানের পাহাড়ে বসিয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন। ছয় নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে মাত্র ৩৪ বলে ৬৪ রানের টনের্ডো ইনিংস খেলেন তিনি। তার অনবদ্য ইনিংসে ৭টি চার ও ২টি ছক্কা ছিলো। রূপগঞ্জের মোহাম্মদ শহীদ ও তাসকিন আহমেদ ২টি করে উইকেট নেন।
জবাবে ৩৭৮ রানের বড় টার্গেটে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি রূপগঞ্জের। ৮৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে তারা। এ অবস্থাতেও হাল ছাড়েননি ওপেনার মোহাম্মদ নাইম। ভারতের ঋষি ধাওয়ান, শহীদ ও তাসকিনকে নিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করেন নাইম। ধাওয়ান ২৯, শহীদ ৫৩ রানে থামলেও সেঞ্চুরির স্বাদ নেন নাইম। ১৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৩৫ বলে ১২৩ রানে অপরাজিত থাকেন নাইম। শেষ পর্যন্ত তার এই ইনিংস বিফলে যায়। ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন তাসকিন। আবাহনীর মিরাজ ৩টি ও মাশরাফি ২টি উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন আবাহনীর সৌম্য।

image_printPrint