দাপুটে জয়ে পোর্তোকে উড়িয়ে দিয়ে শেষ চারে লিভারপুল

72

পোর্তো, ১৮ এপ্রিল ২০১৯ (বাসস) : ফরোয়ার্ড লাইনের তিন সুপারস্টারের সুবাদে এফসি পোর্তোকে দ্বিতীয় লেগে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিভারপুল। ম্যাচে একে একে গোল করেছেন সাদিও মানে, মোহাম্মদ সালাহ ও রবার্তো ফিরমিনো। বাকি গোলটি এসেছে অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডিকের কাছ থেকে। হাই ভোল্টেজ সেমিফাইনালে ইংলিশ জায়ান্টদের প্রতিপক্ষ কাতালান জায়ান্ট বার্সা।
পোর্তোর এস্তাদিও দো ডাগাওয়ের বৃষ্টি¯œাত মাঠে ২৬ মিনিটে সাদিও মানের গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল। যদিও ভিএআর প্রযুক্তির মাধ্যমে গোলটি উপহার পেতে লিভারপুলকে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রথম লেগে এ্যানফিল্ডে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার সুবাদে এমনিতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রন ছিল রেডসের হাতে। তার উপর কালকের ম্যাচে প্রথমেই এ্যাওয়ে গোল পেয়ে লিভারপুল অনেকটাই জেঁকে বসে পোর্তোর ওপর। বিরতির পর মোহাম্মদ সালাহ, বদলী খেলোয়াড় রবার্তো ফিরমিনো ও ভার্জিল ফন ডিকের গোলে ব্যবধান আরো বেড়েছে। ম্যাচ শেষের ২১ মিনিট আগে স্বাগতিকদের হয়ে সান্তনাসূচক এক গোল করেছেন এডার মিলিটাও। এক বছর আগে এই মাঠেই লিভারপুলের কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল পোর্তো।
শেষ চারে লিভারপুলের প্রতিপক্ষ লিয়নেল মেসির বার্সা। ২০০৬/০৭ মৌসুমে শেষ ১৬’র লড়াইয়ের পর এই প্রথম দুই ক্লাব মুখোমুখি হচ্ছে। ঐ আসরে লিভারপুল এ্যাওয়ে গোলের সুবাদে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল। এই জয়ের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয়ের স্বপ্নও টিকিয়ে রাখলো জার্গেন ক্লপের দল। এই নিয়ে টানা ১৭ ম্যাচে অপরাজিত থাকলো অল রেডসরা। একইসাথে এটি তাদের টানা অষ্টম জয়। যদিও পোর্তোর তুলনায় বার্সেলোনার বিপক্ষে স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হবে ক্লপ শিষ্যদের।
এক সপ্তাহ আগে প্রথম লেগের ম্যাচে জয়লাভের পরই মূলত লিভারপুল ঘরোয়া লিগের দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। লিগে আগামী দুটি ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কার্ডিফ সিটি ও হাডার্সফিল্ড টাউন। এক ম্যাচ বেশি খেলে ম্যানচেস্টার সিটির থেকে দুই পয়েন্ট এগিয়ে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে লিভারপুল। চেলসির বিপক্ষে রোববার ২-০ গোলের গুরুত্বপূর্ণ জয়ের ম্যাচটি থেকে তিনটি পরিবর্তন করে মূল একাশ সাজিয়েছিলেন ক্লপ। প্রথম লেগে গোল করা ফিরমিনো ও নেবি কেইটার সাথে কালকের ম্যাচে আরো বাদ পড়েছেন জর্ডান হেন্ডারসন। তাদের পরিবর্তে প্রথম দলে ছিলেন জর্জিনিও উইজনালডাম, জেমস মিলনার ও ডিভোক ওরিগি। এদের মধ্যে বেলজিয়ান এ্যাটাকার ওরিগির লিভাপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের অভিষেক হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে তার পরিবর্তে মাঠে নেমেছিলেন ফিরমিনো।
ম্যাচের শুরুতেই জেসুস করোনার শট বারের উপর দিয়ে চলে গেলে গোল পায়নি পোর্তো। প্রথম ২৫ মিনিটে পোর্তো ১৩টি শট নিয়েছে, কিন্তু একটিও গোলের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। ২৬ মিনিটে সালাহর পাসে মানে উল্টো লিভারপুলকে এগিয়ে দেন। মৌসুমে এটি মানের ২২তম গোল। যদিও গোলটিতে লাইন রেফারি অফ-সাইডের পতাকা উঠিয়েছিলেন। কিন্তু ডাচ রেফারি ড্যানি মাকেলি ভিডিও এসিসটেন্ট রেফারির সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর গোলের সিদ্ধান্তেই স্থায়ী ছিলেন। এই গোলের পরপরই পোর্তো অনেকটাই বুঝে গিয়েছিল তাদের আর কোন সুযোগ নেই। গত মৌসুমে শেষ ১৬’র লড়াইয়ে লিভারপুলের বড় জয়ে মানে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। যে কারণে পোর্তোর দর্শকদের কাছে খুব একটা সুবিধা পাননি দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সেনেগালের এই এ্যাটাকার।
বিরতির পর উভয় দলই ম্যাচে আরো বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠে। ৬৫ মিনিটে ট্রেন্ট আলেক্সান্দার-আর্নল্ডের পাসে সালাহ পোর্তোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসকে পরাস্ত করেন। তিন মিনিট পর এ্যালেক্স টেলেসের কর্ণার থেকে আগামী মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিতে যাওয়া ২১ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মিলিটাও হেডের সাহয্যে পোর্তোর পক্ষে সান্তনার গোলটি দেন। ৭৭ মিনিটে বদলী খেলোয়াড় ফিরমিনো ও ৮৪ মিনিটে ফন ডিক পরপর দু’টি গোল করলে বড় জয় নিয়েই শেষ চার নিশ্চিত করে আত্মবিশ্বাসী লিভারপুল।

image_printPrint