পিছিয়ে পড়েও ড্র করলো আবাহনী

141

ঢাকা, ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ (বাসস) : পিছিয়ে পড়েও এএফসি কাপে ড্র করেছে আবাহনী। রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে দু’দলের হারেনি কেউই। দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতা আনে আবাহনী। যদিও সুযোগ নষ্ট করায় জয় হাতছাড়া হয়েছে ঢাকা আবাহনীর। আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে পাঞ্জাব মিনারভা-আবাহনীর ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। ড্রয়ের ফলে লাভ হয়েছে ঢাকা আবাহনীর। দু’ম্যাচে এখন তাদের ঝুলিতে রয়েছে চার পয়েন্ট। অন্যদিকে পাঞ্জাবের দুই ড্র-এ মাত্র দুই।
এএফসি কাপের প্রথম পর্বে ই-গ্রুপে ঢাকা আবাহনী নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেপালের মানাং মার্সিয়াংদিকে হারিয়েছিল ১-০ গোলে। দ্বিতীয় ম্যাচেও তিন পয়েন্ট নিয়েও মাঠ ছাড়ার প্রত্যাশা ছিলো তাদের। ঘরের মাঠে মিনারভা পাঞ্জাবের বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে আকাশী নীল শিবির। কিন্তু গোলের অসংখ্য সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করায় শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই ম্যাচ শেষ করে তারা।
ম্যাচে আবাহনীর আক্রমণ শুরু হয় প্রথম মিনিট থেকেই। ম্যাচ শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের কোনাকোনি শট নেন সানডে। কিন্তু বল অল্পের জন্য জড়ায়নি জালে। তবে ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে যায় সফরকারীরাই। ১৬ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে স্যামুয়েলের বাড়িয়ে দেয়া বল দৌঁড়ে এসে ডান পায়ের বাকানো শটে আবাহনীর জাল কাঁপান দলীয় অধিনায়ক আল আমনা (১-০)। মিনিট চারেক পরেই ম্যাচে সমতা আনে আবাহনী। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ছোট করে বাড়িয়ে দেন ফিলস বেলফোর্ট। সেই বলে আলতো ছোয়ায় পাঞ্জাবের জাল কাঁপান নাবীব নেওয়াজ জীবন (১-১)। পরের মিনিটেই তিন দফা প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণ সানায় আবাহনীর ফুটবলাররা। তবে শক্ত রক্ষণে সানডে-বেলফোর্টদের বেধে ফেলেন আকাশদ্বীপ-রবার্টরা। ৪৩ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে রায়হান হাসান নিজেদের বক্সে সতীর্থ বেলফোর্টকে বল পাস দিতে যান। কিন্তু বলের গতি কম থাকায় তা পেয়ে যান প্রতিপক্ষের বদলী খেলোয়াড় শ্রেয়াশ। বাঁ প্রান্ত থেকে জোড়ালো কোনাকোনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরোয়ার্ড (২-১)। ফের পিছিয়ে পড়ে আকাশী-নীলরা। এবার সেই গোলও শোধ দেয়ার পালা। ৪৮ মিনিটে ডান প্রান্তে ওয়ালী ফয়সালের ফ্রি কিক পোস্টে লেগে ফেরত আসে। ফিরতি বলে পোস্টের খুব কাছ থেকে বাঁ পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন আবাহনীর নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে সিজোবা (২-২)। ৭২ মিনিটে বক্সের বেশ কাছেই ফ্রি কিক পায় স্বাগতিক দলটি। বেশ চাতুরতার আশ্রয় নিয়েও গোল পায়নি তারা। কিন্তু ওয়ালী ফয়সালের বাক খাওয়ানো ফ্রি কি জড়ায়নি জালে। ৮০ মিনিটে বল নিয়ে প্রতিপক্ষ বক্সে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জীবনের উদ্দেশ্যে পাঠান সানডে। কিন্তু জীবন ঠিকভাবে শটটি নিতে ব্যর্থ হওয়াতে সহজ গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয় আবাহনীর। শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফেরা হয়নি কারো। ফলে হোম ম্যাচে ড্র করে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক দলটি।
৩০ এপ্রিল ভারতের চেন্নাই এফসির সঙ্গে তৃতীয় ম্যাচ খেলবে ঢাকা আবাহনী।

image_printPrint