নিরাপদ সড়ক ও মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে

101

ঢাকা, ১৫ এপ্রিল, ২০১৯ (বাসস) : সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সমাজকে মাদক মুক্ত করতে বিভিন্ন সময়ে যে সুপারিশ এসেছে সেগুলো বাস্তবায়ন দেখতে চায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত সেমিনারে তারা বলেন, সড়ক ও সমাজ থেকে মাদক মুক্ত করতে যে বিভিন্ন সময় যে সব সুপারিশ দেওয়া হয় তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমস্যাগুলো সমাধান হচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধান করতে হলে যে সব সুপারিশ আসে সেগুলো বস্তবায়ন করতে হবে। আজ সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত ‘নিরাপদ সড়ক ও মাদক মুক্ত সমাজ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এই মত দেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম এ গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
সভার মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আজকের সেমিনারে যে সুপারিশগুলো এসেছে সেগুলো আমরা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে দেবো। এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে অন্যান্য বিষয়ের মতো সড়ক ও মাদক সমস্যারও সমাধান হবে। জঙ্গিবাদ যদি আমরা মুক্ত করতে পারি, সড়ক সমস্যার সমাধান ্এবং মাদকও আমরা মুক্ত করতে পারবো।’ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সব কিছুতে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো এখনও সমাধানের পথে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মাদক এখনও সম্পূর্ণ মুক্ত হয়নি। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়ার আমলে সৃষ্ট অনেক সমস্যা আমরা এখনও সমাধান করতি পারিনি। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে সব সুপারিশ বিভিন্ন সময় এসেছে সেগুলো বাস্তবায়ন দেখতে চাই।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন সরকারের সময় বিআরটিসিকে দুনীতিবাজ সংগঠনে পরিণত করা হয়েছিলো। জিয়া এরশাদ খালেদা জিয়ার সময় এই সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছিলো। এখন আমরা সেগুলো ঠিক করতে পারিনি। তবে প্রত্যেকটি সেক্টরে আস্তে আস্তে উন্নতি হচ্ছে। নাজমুল হুদার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া তিনি বলেন, নাজমুল হুদা বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবাষির্কী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্ত্রী সবাইকে নিয়ে পালন করার জন্য সকল রাজবন্দিদের মুক্তির কথা বলেছেন। অবশ্যই আমরা সবাইকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবাষির্কী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্ত্রী উদ্্যাপন করবো। তবে দুনীতিবাজদের নিয়ে নয়। যারা কারাগারে আছেন তারা অপরাধী, অপরাধীদের নিয়ে এতো বড় মহৎ কাজ আমরা করতে পারি না। আমরা সবাইকে জয়বাংলার পতাকা তলে আনতে চাই কিন্তু অপরাধীদেরকে নয়, অতীতের মতো অপরাধ যেনো না হয়।
প্রবীণ সাংবাদিক এবং কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ করতে যে সব সুপারিশ দেয়া হয় সেগুলো বাস্তবায়ন হয় না। সুপারিশ বাস্তাবয়নের এই অবহেলা দূর করতে হবে।
জাতীয় পার্টির(জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি দুর করতে হবে। এটা করতে না পারলে সমস্যার সমাধান হবে না। অপরাধীরা অপরাধ করে বেরিয়ে যাচ্ছে, বিচার হচ্ছে না। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
গোল টেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙা, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান এমপি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান, জাসদের সাধারন সম্পাদক শিরিন আখতার এমপি, সংস সদস্য এ্যারোমা দত্ত, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতা খন্দোকার এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ।
গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া প্রমুখ।

image_printPrint